সোনারগাঁয়ে গার্মেন্টস কর্মীর জমি দখলের অভিযোগ
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ২০:০১
ঝড়ে ঘরটা ভেঙে পড়ল, সন্তানদের মাথা গোঁজার স্থানটুকু ঠিক করতে গেলাম, তাতেই নেমে এল বিপদ। দুই লক্ষ টাকা চাঁদা চায়। তা না দিলে নাকি ভিটেমাটিতে থাকতে দেবে না। দিন আনি দিন খাই, গার্মেন্টস কর্মী মানুষ; এত টাকা কই পাব? দুই লক্ষ টাকা চাঁদাও দিতে পারি না, নিজের জমিতে একটা ঘরও উঠাইতে পারি না। আকুতি ভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ৫০ উর্ধ্ব নারী নুর জাহান।
সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের জাঁঙ্গাল
গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের মেয়ে নুর জাহান (৫৫)। পেশায় সাধারণ এক গার্মেন্টস কর্মী।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্জিত উপার্জনে ক্রয়কৃত এবং পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া শ্রীপতির
চর মৌজার ৫.৩৮ শতাংশ জমিতে সন্তানদের নিয়ে বহু বছর ধরে বাস করছেন তিনি। তবে সম্প্রতি
ঘটে যাওয়া একটি ঝড় তার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ এলোমেলো করে দেয়। ভেঙে যাওয়া টিনশেড
ঘরটি নতুন করে নির্মাণ করতে গিয়েই তাকে মুখোমুখি হতে হয় এক তিক্ত বাস্তবতার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিক জমিতে
নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু সোজা করার উদ্দেশ্যে গত ৭ আগস্ট সকালে ঘর নির্মাণের কাজ
শুরু করেন নুর জাহান। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দেয় এলাকারই এক প্রভাবশালী চক্র। সকাল
আনুমানিক ৯টার দিকে স্থানীয় খন্দকার অলি (৬০), হাবিবুর রহমান (৫৭) এবং তাদের সঙ্গে
থাকা আরও ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হঠাৎই অনধিকার প্রবেশ করে
তার ভিটেয়।
কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে বিবাদীরা
সরাসরি দাবি করে বসে দুই লাখ টাকা চাঁদা। একজন নিঃস্ব গার্মেন্টস কর্মীর কাছে এমন দাবি
যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো। নুর জাহান প্রতিবাদ জানালে শান্ত হওয়ার বদলে আরও উগ্র হয়ে
ওঠে তারা। শুরু হয় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, একপর্যায়ে ধেয়ে আসে মারধরের হুমকি। আশপাশের
লোকজন এসে পড়ায় সেদিনের মতো বড় কোনো অঘটন না ঘটলেও, স্থান ত্যাগের আগে বিবাদীদের
হুমকির সুর ছিল স্পষ্ট, টাকা না দিলে এ জমিতে ঘর তোলা তো দূরের কথা, বসবাসই করতে দেওয়া
হবে না।
নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা নুর জাহান জানান,
বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরেই তার এই জমিটুকু গ্রাস করার পাঁইতারা চালিয়ে আসছিল। এর আগে
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চেয়েও কোনো সুরাহা পাননি, বরং বিবাদীরা
তাতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অসহায় অবস্থায় স্বজন ও স্থানীয়দের পরামর্শে বিচার চেয়ে
অবশেষে সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযুক্ত খন্দকার অলি ঘটনার সত্যতা স্বীকার
করে বলেন, ঘর তোলার সময় আমাদের সাথে একটু কথাকাটাকাটি হয়েছিল, এটা সত্য। তবে আমরা
কোনো চাঁদা দাবি করিনি। ওই জমির সীমানা নিয়ে আমাদের একটু ঝামেলা রয়েছে। এলাকার মুরুব্বীদের
নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত
করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

