Logo

সারাদেশ

মাগুরার ৩৩৩ গ্রামীণ সড়ক গেজেটভুক্ত

Icon

মাগুরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৩

মাগুরার ৩৩৩ গ্রামীণ সড়ক গেজেটভুক্ত


 বছরের পর বছর ধরে  সরকারি গেজেটের স্বীকৃতি না থাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আসছিল না মাগুরার গুরুত্বপূর্ণ বহু গ্রামীণ সড়ক। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। জেলার ৩৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক বাংলাদেশ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯৪ দশমিক ৮২ কিলোমিটার।

মঙ্গলবার বিষয়টা নিশ্চিত করেছেন মাগুরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আ. ন. ম. ওয়াহিদুজ্জামান।

এর আগে গত ২২ জুলাই প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ ও সড়ক পরিবহন উইংয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মাগুরার এসব আইডিবিহীন সড়ককে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গেজেটভুক্তির ফলে দীর্ঘদিন উন্নয়ন কার্যক্রমের বাইরে থাকা সড়কগুলো এখন পর্যায়ক্রমে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জেলার চার উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। কৃষিপণ্য বাজারজাত করা থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং জরুরি রোগী পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই এসব সড়কের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয়রা।

তবে দীর্ঘদিন গেজেটভুক্ত না থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সড়কগুলোর উন্নয়ন ও সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই কাদামাটি, খানাখন্দ ও ভাঙনের কারণে অনেক এলাকায় দুর্ভোগ চরমে ওঠে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হয় কৃষকদের।

মাগুরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আ. ন. ম. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন,আমি মাগুরা জেলায় দায়িত্ব নেওয়ার পর  দেখতে পাই জেলায় প্রয়োজনের তুলনায় গেজেটভুক্ত সড়কের সংখ্যা ছিল খুবই কম। অথচ প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন অনেক সড়ক রয়েছে, যেগুলো স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ গেজেটবিহীন সড়কগুলো চিহ্নিত করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ৩৩৩টি সড়ক গেজেটভুক্ত হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, গেজেটভুক্ত হওয়ার ফলে এখন এসব সড়ককে উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হবে। পর্যায়ক্রমে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হলে কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সরাসরি এর সুফল পাবেন।

মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান বলেন, ৩৩৩টি সড়ক গেজেটভুক্ত হওয়া জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তব প্রতিফলন। গ্রামীণ সড়ক শুধু মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি একটি এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। মাগুরা কৃষিনির্ভর জেলা। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত ও কম খরচে বাজারে পৌঁছাতে উন্নত সড়ক যোগাযোগের বিকল্প নেই। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষের চলাচলও সহজ হবে। এখন দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে এসব সড়ককে টেকসই ও আধুনিক সড়কে রূপান্তর করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ৩৩৩টি সড়কের গেজেটভুক্তি মাগুরার যোগাযোগ অবকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এসব সড়ক পর্যায়ক্রমে উন্নত হলে জেলার প্রত্যন্ত জনপদগুলোর সঙ্গে উপজেলা ও জেলা শহরের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। এর পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গেজেটের স্বীকৃতিকে বাস্তব উন্নয়নে রূপ দেওয়া।

মাগুরাবাসীর প্রত্যাশা, কাগজে-কলমে স্বীকৃতির পর এবার দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৩৩৩টি সড়কই টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠবে।



বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন