কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ২১:২৫
কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে রাতে জয় বাংলা স্লোগান, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্য কুষ্টিয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিস্তম্ভে গভীর রাতে গিয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান ও বক্তব্য দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার দিবাগত গভীর রাতে কুষ্টিয়া শহরের শহিদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের সামনে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার একটি ভিডিওক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে একজন পুরুষকে স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে ও বক্তব্য রাখতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ভয় করি না বুলেট বোমা, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘আমার সোনার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। এ সময় তিনি হানিফ ও কামারুল নাম উল্লেখ করে তাদের পক্ষে স্লোগানও দেন।
ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘ষড়যন্ত্র করে জঙ্গিবাদীরা আমার নেত্রীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, বাংলাদেশ থেকে যেতে বাধ্য করেছে। আমরা এই জুলাই মানি না, কখনো মানবো না। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, আমরা শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে ইনশাল্লাহ ওয়েলকাম করে নিয়ে আসব।’
দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকা কে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আলমাস হোসেন বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত। এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা তারা আগেই জানতে পেরেছিলেন। বিষয়টি পুলিশকেও অবহিত করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার, কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বরসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশের পরিস্থিতি পরিদর্শনের পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেয় । এ সময় তারা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।
ঘটনাটি ঘিরে কুষ্টিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে । ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় এবং গভীর রাতে স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিকে/মান্নান

