Logo

সারাদেশ

কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে

Icon

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩০

বাংলাদেশকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে

# নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে

# জলজ সম্পদ সংরক্ষণে জলাশয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারের আহ্বান

# বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে ১০ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরবে সরকার

# বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান

বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং সে লক্ষ্যেই বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। তিনি জলজ সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই মৎস্য চাষের মাধ্যমে দেশের মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে বিদ্যমান সব জলাশয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে শিক্ষার সব খরচ সরকার বহন করবে। একই সঙ্গে ভালো ফল করা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পড়ে থাকা পুকুর, বিল, হাওর ও অন্যান্য জলাশয় সংস্কার করে সেখানে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। এসব জলাশয় সংশ্লিষ্ট এলাকার তরুণদের মধ্যে বণ্টন করে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে ‎তারেক রহমান সড়কপথে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। এসময় ‎তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা ইউনিয়নে জর্জ ইনস্টিটিউট মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এসব কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।‘

পাকুন্দিয়া অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ বর্তমান সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা তুলে ধরবে।

কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং জাতীয় মৎস্য পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নদীমাতৃক বাংলাদেশে পুকুর, বিল, হাওর, বাওড় এবং অন্যান্য জলাশয় কাজে লাগিয়ে কিংবা অল্প জমি ব্যবহার করে মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সারা দেশে বহু জলাশয় রয়েছে, যেগুলো কোনো কারণ ছাড়াই পড়ে আছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে সেখানে মাছের পোনা ছাড়তে চায়। যে এলাকায় যেসব পুকুর, হাওর-বিল বা অন্যান্য জলাশয় রয়েছে, সেগুলো ওই এলাকার তরুণদের মধ্যে যথাযথভাবে বণ্টন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি এ খাতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মৎস্য রপ্তানি সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখায় জাতীয় মৎস্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে যদি আমরা পিছিয়ে রাখি, তাহলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে। সব খরচ বহন করবে সরকার।

তিনি বলেন, এখানে অনেক বোন ও সন্তানতুল্য মেয়েরা আছে। তোমাদের ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে, যাতে বড় হয়ে তোমরা এই দেশের হাল ধরতে পারো। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়েরা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে।

নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের নারী সমাজকে যেমন শিক্ষায় সামনে এগিয়ে নিতে চাই, একইভাবে তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আল্লাহর রহমতে ফ্যামিলি কার্ডের কাজও শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে আজ কিশোরগঞ্জ জেলায় ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।

মাছের পোনা অবমুক্ত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ এখানে যে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলো, এসব মাছ যখন বড় হবে, ডিম দেবে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে, তখন এর উপকার কারা পাবেন? লন্ডনের মানুষ, নাকি জাপানের মানুষ? বাংলাদেশের মানুষই এর উপকার পাবে।

তিনি বলেন, মৎস্য চাষ দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাছ চাষ, আহরণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রয়সহ পুরো প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াতেও মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

এ সময় তারেক রহমান জানান, চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে।

এ অর্জনের কৃতিত্ব মৎস্য খাতের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির বলে উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, এশিয়ার দেশগুলো ক্রমেই মিঠাপানির মাছ উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।

গত জুনে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, মাছসহ জলজ প্রাণী উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। আর অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের সব রকমের পরিসংখ্যানই দেখা যায়, মৎস্য চাষ কিংবা মৎস্য আহরণে বিশ্বে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।’ এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে পরিশ্রম করতে পারলে মৎস্য খাতে আরও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠন করে ক্লাস্টারভিত্তিক চিংড়ি চাষ উন্নয়নের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সাড়ে ৭ হাজার ঘেরে উৎপাদন গড়ে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। এছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ৭ হাজার একর জমিতে চিংড়ি চাষের উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়নসহ ‘শ্রিম্প সিটি মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইলিশ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ইলিশ শুধু বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ও অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, এটি দেশের জিআই পণ্য হিসেবেও বিশ্বে স্বীকৃত। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ এবং দেশজ উৎপাদনে এর অবদান ১ শতাংশের বেশি।

তিনি বলেন, ২০০৩-০৪ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে ‘ইলিশ ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর ফলে পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ১৪ লাখ নারীসহ প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই এ খাতকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখা সরকার বিশেষ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকার মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও জলজ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও আবহমান ঐতিহ্যের সঙ্গে এসব খাতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং দেশের কোটি কোটি মানুষ এসব পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মৎস্যচাষি ও জেলেদের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, মৎস্যচাষিদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলেদের পরিচয়পত্র প্রদান ও নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে।

তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালীন জেলেদের ভিজিএফের আওতায় আনা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে উদ্যোক্তাদের নতুন বাজার খোঁজার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত জুনে নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে। বিদেশে নিত্যনতুন পণ্যের বাজার খুঁজে বের করতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা জানালে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করেছে। এই ফান্ড থেকে সম্ভাবনাময় নতুন উদ্যোক্তাদের ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঋণ নয়, গ্রান্ট (অনুদান) দেওয়া হবে।’ নতুন উদ্যোক্তাদের এ সুযোগ গ্রহণ করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মৎস্যসম্পদের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, খাল, বিল, নদী-নালা ও হাওর-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে বর্জ্য, টিস্যু পেপার, প্লাস্টিক ও পানির বোতল ফেলার কারণে ধীরে ধীরে জলাশয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাছ ও জলজ সম্পদ রক্ষা করতে হলে একই সঙ্গে পরিবেশের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ রক্ষা করা গেলে মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাছ ও প্রাণিসম্পদও সুস্থ পরিবেশে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

‘রুপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এবারের মৎস্য পক্ষের এই প্রতিপাদ্য তুলে ধরে ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগিয়ে একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. খালেদ কনক বক্তব্য রাখেন।

দিনভর সফর ও কর্মসূচি শেষে গতকাল ‎সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন প্রধানমন্ত্রী। ‎দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান ১৯৯৮ সালে প্রথম কিশোরগঞ্জ গিয়েছিলেন। সে সময় ভৈরব ও কুলিয়ারচরে একাধিক পথসভা ও জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ জেলায় এবারই তার প্রথম সফর। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ২২ জানুয়ারি ভৈরবে নির্বাচনি জনসভায় গিয়েছিলেন তারেক রহমান।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর


আরও পড়ুন

নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী, থাকছে দিনব্যাপী কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন আজ, দিনব্যাপী যত কর্মসূচি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন