খাল খনন প্রকল্পে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ
এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০০:০৩
অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম, ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের (CDRSSWRSP) আওতায় তালতলীতে একটি খাল খনন প্রকল্পের অগ্রগতি করে দেওয়ার কথা বলে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে বরগুনার সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলমের বিরুদ্ধে।
তালতলী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ মন্টু মল্লিক এ অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে মোহাম্মদ মন্টু মল্লিক দাবি করেন, কৃষি ও কৃষিনির্ভর মানুষের স্বার্থে তালতলী উপজেলা থেকে CDRSSWRSP-এর আওতায় একটি খাল খননের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে তিনি বরগুনার সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় প্রকল্পটির অগ্রগতি করে দেওয়ার জন্য তার কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) জন্য এবং ১০ লাখ টাকা নিজের জন্য দিতে হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন— এমন দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সহকারী প্রকৌশলী তাকে বলেছেন, পিডি তাকে সেখানে দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তার সহযোগিতা ছাড়া প্রকল্পটির আর কোনো অগ্রগতি হবে না। বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জানিয়ে অভিযোগ করার কথা বললে ওই কর্মকর্তা প্রধান প্রকৌশলীর চাকরির মেয়াদ এবং পিডির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করেছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আমতলী ও তালতলী উপজেলায় প্রকল্পের প্রস্তাবকারী পরিবর্তন এবং অর্থের বিনিময়ে একজনের নামে প্রস্তাবিত প্রকল্প অন্য ব্যক্তির কাছে দেওয়ার চেষ্টাসহ আরও কিছু অনিয়মের অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদ মন্টু মল্লিক।
অভিযোগকারী জানান, বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) জানানো হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট দুদকের পরিচালক মো. রফিকুজ্জামান বরগুনার সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলমের সঙ্গে ফোনে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মোহাম্মদ মন্টু মল্লিক বলেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। আমি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলমের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
অভিযোগকারী প্রধান প্রকৌশলীর কাছে দেওয়া আবেদনে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলমকে অন্যত্র বদলির দাবি জানান।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

