Logo

সারাদেশ

আরাকান আর্মির হাতে জিম্মি ২৪ জেলে দেশে ফিরেছেন

Icon

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫৭

আরাকান আর্মির হাতে জিম্মি ২৪ জেলে দেশে ফিরেছেন

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে বিভিন্ন সময়ে আটক ২৪ জেলে ও মাঝিমাল্লা দেশে ফিরেছেন। 

বুধবার দুপুরে টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি ট্রলারে করে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি তাদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসে।

ফেরত আসা ২৪ জনের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ছয়জন রোহিঙ্গা। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

আজ দুপুরে টেকনাফ বাংলাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী, বিজিবির উপঅধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদার ও টেকনাফ কোস্ট গার্ডের লে. কমান্ডার আরাফাত হোসেন। 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়ায় বিভিন্ন সময়ে আরাকান আর্মির হাতে এসব জেলে আটক হন। বিজিবির প্রচেষ্টায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরাকান আর্মির হাতে প্রায় নয় মাস জিম্মি থাকার পর দেশে ফিরেছেন সাবরাংয়ের কোয়ানছড়িপাড়ার মো. শফিক। তিনি জানান, ছয় মাঝিমাল্লা নিয়ে সেন্টমার্টিনের পূর্বে সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তারা। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে আটক করে নিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় নয় মাস বন্দিজীবন কাটাতে হয়েছে। সেখানে আমাদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। প্রতিদিন প্রায় সাত ঘণ্টা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হতো। কাজ করতে না চাইলে ব্যাপক মারধর করা হতো। সারাদিনের জন্য দেওয়া হতো একবেলা ভাত। নয় মাস মানবেতর জীবন কাটিয়েছি। অবশেষে দেশে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে। দেশে এসে বিজিবির কাছ থেকে নয় মাস পর ভালোভাবে খাবার পেয়েছি। সেখানে রোহিঙ্গাসহ আরও অর্ধশতাধিক জেলে আটকা রয়েছেন।’

টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. ওসমান ও মো. কেফায়েত উল্লাহও আরাকান আর্মির হাত থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরেছেন। তারা জানান, নাফ নদীতে ককশিটের নৌকা নিয়ে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশ জলসীমা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি।

তাদের দাবি, প্রায় দুই বছর দুই মাস আরাকান আর্মির হাতে বন্দি ছিলেন তারা। এ সময় প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা করে কৃষিকাজে শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কাজ করতে রাজি না হলে মারধর করা হতো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘আরাকান আর্মির হেফাজত থেকে ২৪ জেলেকে ফেরত আনা হয়েছে। সেখানে থাকা অন্য জেলেদেরও ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা চলছে। দেশে ফেরত আসা জেলেদের যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে নাফ নদীর শূন্য লাইনে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কাছে আটক থাকা ৭৩ জন জেলেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৬ জন বাংলাদেশি এবং সাত জন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। এ ছাড়া এখনো আরাকান আমির হাতে অর্ধশতাধিক জেলে আটক রয়েছেন। 

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন