Logo

সারাদেশ

সীতাকুণ্ড উপকূলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চিংড়ি পোনা আহরণ

Icon

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩৭

সীতাকুণ্ড উপকূলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য   করে চিংড়ি পোনা আহরণ


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিস্তীর্ণ উপকূলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চিংড়ির রেণু-পোনা আহরণ চলছে। নিষিদ্ধ বেহুন্দি ও সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল দিয়ে চিংড়ির পোনা ধরার পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ডিম, রেণু-পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। এতে হুমকির মুখে পড়েছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জোয়ারের সময় সৈয়দপুরের বগাচতর, পশ্চিম সৈয়দপুর ও গুলিয়াখালী উপকূল থেকে শুরু করে ভাটিয়ারী, কুমিরা ও বাঁশবাড়িয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বেহুন্দি ও মশারি জাল বসিয়ে রেণু-পোনা আহরণ করা হয়। এসব জালে কাঙ্ক্ষিত চিংড়ির পোনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ডিম, রেণু এবং জলজ প্রাণীর ক্ষুদ্র পোনা আটকা পড়ে। চিংড়ির পোনা বাছাইয়ের পর অন্যান্য প্রাণী তীরে বা বালুর ওপর ফেলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, বছরের পর বছর এভাবে নির্বিচারে রেণু-পোনা আহরণের কারণে উপকূলীয় এলাকায় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অব্যাহতভাবে এভাবে পোনা আহরণ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সাগরে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৈয়দপুর, মুরাদপুর, কুমিরা ও বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট এলাকায় চিংড়ির পোনা সংগ্রহ ও সরবরাহে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। জেলেদের কাছ থেকে কম দামে সংগ্রহ করা পোনা বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে রাত কিংবা ভোরে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়িঘের এলাকায় পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের অভিযান চলাকালে সাময়িকভাবে পোনা আহরণ বন্ধ থাকলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে শিকারিরা।

চিংড়ির পোনা আহরণ বন্ধে সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্য দপ্তর বিভিন্ন সময়ে উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। সর্বশেষ বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ বেহুন্দি জাল জব্দ করা হয়। পরে জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, “সন্দ্বীপ চ্যানেলে সারা বছরই চিংড়ির পোনা ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ, সূক্ষ্ম জালে চিংড়ির পোনা ধরার সময় অন্যান্য প্রজাতির মাছের হাজার হাজার পোনা বিনষ্ট হয়। এতে জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।”

তিনি বলেন, অবৈধ রেণু আহরণ বন্ধে মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপকূলীয় এলাকার সচেতন বাসিন্দা ও জেলেদের মতে, বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। রেণু-পোনা রক্ষায় সন্দ্বীপ চ্যানেলসহ সীতাকুণ্ড উপকূলে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের সমন্বিত অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, চিংড়ির পোনা আহরণের সময় ধ্বংস হওয়া অন্যান্য মাছের রেণু ও জলজ প্রাণী রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন