Logo

সারাদেশ

পাশাপাশি চিতায় শিক্ষক গণপতি দম্পতি ও দুই সন্তানের শেষকৃত্য

Icon

রংপুর ব্যুরো

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৯

পাশাপাশি চিতায় শিক্ষক গণপতি দম্পতি ও দুই সন্তানের শেষকৃত্য

ছবি: সংগৃহীত

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর নগরের কামাল কাছনা দখীগঞ্জ মহাশ্মশানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

এর আগে রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চারজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে দুই দফায় চারজনের মরদেহ ওই মহাশ্মশানে নেওয়া হয়। ধর্মীয় আচার–আয়োজনের পর পাশাপাশি চারটি চিতায় চারজনের মরদেহ তোলা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দাহকার্য শেষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, চারজনকে চিতায় তোলার সময় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি হয়। স্বজনেরা চোখের পানি ফেলেন, পরিবারের বাইরে পরিচিত যারা ছিলেন, তারাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

দাহকার্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নিহত শিক্ষকের বড় ভাইয়ের জামাতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক শেষকৃত্য দেখেছি। একই সঙ্গে চারজনকে বিদায় জানানোর কষ্টের দৃশ্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মনে থাকবে।’

চিতায় বোন, বোনের স্বামী ও দুই ভাগনে–ভাগনির শেষকৃত্যের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত শিক্ষকের শ্যালিকা পূজা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘যারা মেরেছে, ভগবান তাদের বিচার করবে। তাদের কঠিন শাস্তি চাই।’ কিছুটা থেমে বলেন, ‘আহারে আজ তাদের বেঁচে থাকার কথা ছিল। একসঙ্গে তারা বিদায় নিল!’

গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় নিজের বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ দাবি করেছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় তাদের একে একে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। তাদের দুজনের বাড়ি মাছুয়াপাড়াতেই।/

তবে হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার। প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, ‘কিছুই বুঝতে পারছি না। পুলিশ যে কী করছে, কী হচ্ছে। পুলিশ বলছে, ইয়াবাখোর দুজন নাকি এক এক করে চারজনকে মারছে।’

এ ঘটনায় রোববার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে রংপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। মামলার পর এর আগে আটক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।

গোপীনাথ চক্রবর্তীর জামাতা বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘পুলিশ যা বলছে, তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। দুইটা কম বয়সী ছেলে চারটা মানুষকে মেরে ফেলতে পারে না। আর ওই দুই ছেলের ফিজিক্যাল (শরীরের) যে অবস্থা, তাতে তারা চারজনকে মারার ক্ষমতা রাখে না। বিষয়টি নিয়ে অনেক প্রশ্ন আমাদের মধ্যেই আছে।’

দুই তরুণ যে হত্যা করেছে, তা বিশ্বাস করতে চাইছে না তাঁদের পরিবারও। গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা কানু দাস বলেন, ‘আমার ছেলে কিছুটা নেশা করে। তাই বলে কাউকে খুন করবে, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’ মুগ্ধ দাসের মা সেনা দাস বলেন, ‘ছেলেটা কিছু ছেলের পাল্লায় পড়ে নেশা করে। তবে মানুষ খুন করা তো সহজ নয়।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে রোববার ভোরে আটক করা হয়। পরে তারা হত্যায় জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। এ কারণে মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন