রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে ঠাকুরগাঁওয়ে হাফ ম্যারাথন
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৬
ভোরের নীরবতা ভেঙে একসঙ্গে ছুটলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দৌড়বিদরা। কারও লক্ষ্য নিজের রেকর্ড ভাঙা, কারও প্রত্যয় সুস্থ জীবন গড়া। আবার কেউ ছুটলেন সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব ও মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার বার্তা নিয়ে। এমনই প্রাণবন্ত আয়োজনে ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’।
বাংলাদেশের ২৩তম নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উৎসর্গ করে শুক্রবার ভোরে জেলার আব্দুর রশিদ ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে এ হাফ ম্যারাথনের সূচনা হয়। এতে দেশের প্রায় ৩০ জেলা থেকে আসা দৌড়বিদরা অংশ নেন।
সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গানে এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল মেসার্স গার্ডেনিয়া। সকাল থেকেই দৌড়বিদদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে শহর ও আশপাশের এলাকা।
ঢাকা থেকে আসা কিশোরী দৌড়বিদ জিন্নাথ পারভীন বলেন, এই ম্যারাথন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়। এটি এক জেলার সঙ্গে আরেক জেলার এবং একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের হৃদয়ের সংযোগ তৈরি করে। এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সম্মান জানাতেই এবারের হাফ ম্যারাথনটি তাঁকে উৎসর্গ করা হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়েছেন, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গেও তাঁর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই আয়োজন করা হয়েছে।
তরুণ রানার এলিন খান বলেন, একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটারই নতুন চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হয়, পা ক্লান্ত হয়ে আসে; তবু থেমে যাওয়া যায় না। কারণ গন্তব্য শুধু ফিনিশিং লাইন নয়, নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করাও একটি বড় অর্জন। সেই জয় উদযাপন করতেই আমরা একসঙ্গে ছুটছি।
ম্যারাথনে অংশ নেওয়া দৌড়বিদদের জন্য শুধু দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজনই করা হয়নি। ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দিতে জেলার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান ঘুরিয়ে দেখানো হয়। ফলে শরীরচর্চার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে ঠাকুরগাঁওকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।
আয়োজকদের মতে, একজন মানুষ যখন অন্য জেলার মাটিতে দৌড়ান, তখন শুধু তাঁর পায়ের ছাপই পড়ে না; সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে পরিচয়, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার বার্তাও। সেই অর্থে এবারের হাফ ম্যারাথন ঠাকুরগাঁওকে শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজনের কেন্দ্রেই পরিণত করেনি, বরং দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত করেছে।
ঠাকুরগাঁও রানার্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নুর ই শাহাদাত স্বজন বলেন, আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে সারা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ উজ জামান। এ সময় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, আয়োজক কমিটির সদস্য, দৌড়বিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের সেই দৌড় শেষ হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের রাজপথে রেখে গেছে এক ভিন্ন বার্তা সুস্থতার জন্য দৌড়, সম্প্রীতির জন্য দৌড়, আর মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধনের জন্য একসঙ্গে এগিয়ে চলার প্রত্যয়।
বিকে/মান্নান

