কুষ্টিয়ায় ৩২ বছর ধরে বিনা বেতনে পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা
কুষ্টিয়ায় ৩২ বছর ধরে বিনা বেতনে পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:২৭
কুষ্টিয়া শহরের গিরিজানাথ মজুমদার সড়কে অবস্থিত কমলাপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৪ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও চার দশকেও মেলেনি সরকারি স্বীকৃতি। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়টি চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ ও শিক্ষকদের চাকরি সরকারীকরণের দাবিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন জানিয়েছেন শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। আবেদনের স্মারক নং: কমবেসপ্রবি/কুসকু ৮.০০.৭০০০.৪৪.০৪.০৬.২০১.০.৮৯, তারিখ: ০৪/০৬/২০২৬ ইং।
নথিপত্র থেকে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে উদ্বোধন করেন। ২০০৪ সালের মে মাসে খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সরজমিনে পরিদর্শন শেষে পাঠদানের অনুমতির জন্য সুপারিশ করেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য বিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রেশনের জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠান।
পরবর্তীতে ২০১৩ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের আওতায় পড়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সুপারিশের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৭ মে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৪৪০টি বিদ্যালয়ের যে তালিকা জাতীয়করণের জন্য অনুমোদন করে, সেখানে কমলাপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২৫ নম্বর তালিকায় স্থান পায়। তবে তালিকার অন্যান্য বিদ্যালয় জাতীয়করণ হলেও অজ্ঞাত কারণে এই বিদ্যালয়টি বাদ পড়ে যায়।
বর্তমানে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সরেজমিনে ও আবেদনের সাথে সংযুক্ত তথ্যে জানা যায়:
বিদ্যালয়ের বেঞ্চগুলো ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং ঝরে পড়ার হার বাড়ছে।
শ্রেণিকক্ষ ও ওয়াশরুম জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা না হলে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এছাড়া খেলাধুলার পরিবেশ ও পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রীর অভাব রয়েছে।
দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে কোনো প্রকার সরকারি সুবিধা না পাওয়ায় শিক্ষকরা চরম হতাশা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকে সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফলাফল করে আসছে এবং প্রতি বছর বৃত্তিও পাচ্ছে। বিদ্যালয়টি অতি দ্রুত সরকারি গেজেটভুক্ত না করা হলে এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন শিক্ষক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
উক্ত আবেদনপত্রে কুষ্টিয়া পৌর বিএনপি সভাপতি এ.কে বিশ্বাস বাবু, সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সদস্য সচিব মো: আরিফুল হক স্বাক্ষর করেছেন।
এছাড়া অনুলিপি কুষ্টিয়া সদর আসন-৩ এর সংসদ সদস্য হাফেজ মুফতি আমীর হামজাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সাধারন জনগন, শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের প্রানের দাবি স্কুলটি জাতীয় করন করে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার উত্তম পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিকে/মান্নান

