বীরগঞ্জে হলুদ রঙের তরমুজ চাষে কৃষকের বাজিমাত
বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২২
প্রচলিত সবুজ তরমুজের পাশাপাশি এবার ভিন্ন রঙের তরমুজ চাষ করে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার তরুণ কৃষক মো. হাবিবুর রহমান। অফ-সিজনে হলুদ রঙের ‘রঙ্গিলা’ জাতের তরমুজ চাষ করে তিনি যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন, তেমনি নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিয়েছেন স্থানীয় কৃষকদের সামনে।
উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকী গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ জাতের তরমুজ চাষ করেন। উন্নত পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার ফলে তার খেতে এখন দৃষ্টিনন্দন হলুদ তরমুজের সমারোহ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে থাকা উজ্জ্বল হলুদ রঙের তরমুজ সহজেই পথচারী ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খেতজুড়ে সারি সারি তরমুজ। আকর্ষণীয় রঙ, বড় আকার এবং উন্নত মানের ফলন দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করছেন। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের উপজেলা থেকে কৃষক ও আগ্রহী দর্শনার্থীরা তার খেত পরিদর্শনে আসছেন। তারা তরমুজ চাষের কৌশল, বীজ নির্বাচন, পরিচর্যা এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কে হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন।
কৃষক মো. হাবিবুর রহমান জানান, রঙ্গিলা জাতের হলুদ তরমুজ দেখতে যেমন ব্যতিক্রমধর্মী, খেতেও তেমনি সুস্বাদু, রসালো ও মিষ্টি। প্রতি শতক জমিতে মাত্র ১ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে প্রতি একরে ৩০-৩৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ প্রায় ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারমূল্য ভালো থাকায় আমি আশানুরূপ লাভের আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, নতুন জাতের এ তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত হলে এ অঞ্চলে এর ব্যাপক সম্প্রসারণ সম্ভব।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সাধারণ তরমুজের তুলনায় হলুদ রঙের এই জাতটি দেখতে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। স্বাদ ও বাজারমূল্য ভালো হওয়ায় ভবিষ্যতে তারাও এ জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভোগনগর ও মরিচা ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে অফ-সিজন রঙ্গিলা জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এর মধ্যে কৃষক হাবিবুর রহমানের খেতের ফলন, ফলের গুণগত মান, রঙ ও স্বাদ অত্যন্ত ভালো হয়েছে। নতুন এই জাতটি ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও কৃষির বহুমুখীকরণের এই সময়ে লাভজনক ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। হলুদ রঙের এই তরমুজ ভবিষ্যতে বীরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন ও লাভজনক জাতের ফসল চাষ কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষির বৈচিত্র্য আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর সেই সম্ভাবনার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন বীরগঞ্জের তরুণ কৃষক মো. হাবিবুর রহমান।
বিকে/মান্নান

