মিঠাপুকুরে বন্ধ হচ্ছে না ভেজাল গুড় উৎপাদন
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১৮
রংপুরের মিঠাপুকুরে ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় একের পর এক অভিযান, জরিমানা ও উৎপাদনসামগ্রী ধ্বংস,কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই আবারও শুরু হয় সেই কার্যক্রম। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আর জরিমানাই কি যথেষ্ট, নাকি অবৈধ কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধে প্রয়োজন কঠোর ও কার্যকর আইন প্রয়োগ?
উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরের হাট এলাকার পশ্চিম গেনার পাড়া ও ফুলচৌকি খামারপাড়ায় ক্ষতিকর রাসায়নিক ও চিনি ব্যবহার করে অননুমোদিত ও অস্বাস্হ্য কর উপায়ে ভেজাল গুড় উৎপাদনে করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে কয়েকটি কারখানা। সম্প্রতি এই এলাকায় দুটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে গেল ৫-৯-২৬ ইং তারিখে মালিক মুকুল মিয়াকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও আর একটি কারখানার ০৩-০৯-২৬ ইং তারিখে মালিক মোরছালিন ইসলাম ছোটনকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেন, এবং ০৯-০৯- ২৬ ইং তারিখে আলমগীর হোসেন কে ভেজাল গুড়ের জন্য ১,৫০,০০০ টাকা ও গাড়ির জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, একই সঙ্গে কারখানায় থাকা বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুড় ও উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। এর আগেও আশিক জামানের নেতৃত্ব পশ্চিম গেনার পাড়া এলাকার গুড় উৎপাদন কারী মালিকদেরকে জেল ও জরিমানা দিয়েছিলেন।
এর আগেও এই ভেজাল গুড় উৎপাদন কারী কারখানা ও মালিকদেরকে অনেক কয়েকবার অভিযান চালিয়েছেন,মিঠাপুকুর উপজেলা প্রশাসন তৎকালীন ইউএনও, ফাতেমাতুজজোহরা, মামুন-অর-রশীদ, মামুন ভূইয়া, রাকিবুল ইসলাম, বিকাশ চন্দ্র সহ অনেকেই, কিন্তুু বার বার অভিযান ও সর্তকতা করে দেওয়া সত্বেও অদৃশ্য শক্তির কারণে কারখানা গুলোতে নিয়মিত উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রের জানা যায়, একই এলাকায় গত সপ্তাহেই দুই দফা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কারখানায় আখের রস ছাড়াই চিনি, পচা মিষ্টির শিরা ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে গুড় তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানে কারখানা থেকে পচা মিষ্টির শিরা, টেক্সটাইল ডাই বা কাপড়ের রং, সিদুর, সোডা, রাসায়নিক চুনসহ বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে। পরে এসব উপকরণ ও প্রক্রিয়াজাত ভেজাল গুড় ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান চলাকালে কারখানা বন্ধ, জরিমানা কিংবা উৎপাদনসামগ্রী ধ্বংস করা হলেও স্থায়ীভাবে এসব কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও একই স্থানে একই কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়,অভিযানের সুফল কোথায়? প্রশাসনের আইন প্রয়োগ কোথায়? তাহলে ব্যবসায়ীরা কী আইনের উর্ধ্বে??
বিকেমান্নান

