Logo

সারাদেশ

খোকসায় রাস্তা সংস্কারে বিলম্ব দুর্ভোগ চরমে

Icon

খোখাকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪১

খোকসায় রাস্তা সংস্কারে বিলম্ব   দুর্ভোগ চরমে


দীর্ঘ ২ বছর রাস্তার সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায়   ভোগান্তিতে ৪ ইউনিয়নবাসী।গ্রামীণ রাস্তা পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের  কাজটি শুরু করে  অহনা প্রতিষ্ঠান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে  কাজটি শুরু হলেও এখন পর্যন্ত সংস্কারের কাজ শেষ হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময় কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।পরবর্তীতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে যায়। ফলে রাস্তা চলাচলে সাধারণ যাত্রীদের বিঘ্ন ঘটে। রাস্তাটির মাঝখানে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা  ঘটছে। 

এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত আমবাড়িয়া,গোপগ্রাম,  জয়ন্তীহাজরা,বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা উপজেলা প্রধান সড়ক হয়ে   জেলা শহর কুষ্টিয়া, রাজবাড়ি,ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে  চলাচল করে।   বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি সড়কটি।সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরেছে।রাস্তার উপরে বড় বড় খানা খন্দ হওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে ছোট বড় সকল ধরনের যানবাহনের।এমন রাস্তার বেহাল দশাতে ভোগান্তিতে পরেছে চার ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলাধীন গোপ গ্রাম  জিসি ভবানীগঞ্জ বাজার আর এইচডি সড়ক মেরামত ২০২৩ -২৪ অর্থবছরে ৪৩৫০ মিটার রাস্তার কাজ শুরু হয়। যার প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ১৬৯৯৭৯৫০ টাকা আর  চুক্তি মূল্য ছিল ১৬১৪৮০৫২  টাকা । সংস্কারের কাজটি পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অহনা ট্রেডার্স। 

এ বিষয়ে খোকসা উপজেলা এলজিডি অফিস সূত্রে জানা যায়,  ২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে  রি- টেন্ডারের   জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদের স্বাক্ষরিত এলজিডি প্রধান শাখায়   প্রেরণ করা হয়। চিঠিতে  উল্লেখ করা হয় খোকসা উপজেলাধীন গোপগ্রাম রাস্তার আর এইচডি সড়ক মেরামত ৪৩৫০ মিটার কাজ  চুক্তি বিধি মোতাবেক সমাপ্ত না করায় কার্যদেশ ও চুক্তি নামা বাতিলকরণে ২৮ দিনের একটি  নোটিশ প্রদান করা হয়। কাজটি বাস্তবায়নের মেয়াদ  ২০২৩ সালের মার্চ মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল।  নির্ধারিত সময়ে পুরো  কাজটি শেষ না হওয়ায় ঠিকা  চুক্তির  পরিপন্থী হওয়ায় কাজটি বাতিল করেন। 

তবে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক জায়গার ভালো রাস্তাটি ক্ষুরে ক্ষুরে সাধারণ মানুষের   চলাচলের  অযোগ্য করা হয়েছে।রাস্তাটির মাঝে মাঝে কিছু অংশে ভাঙ্গা হয়েছে । এতেই ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রীরা। 

এ বিষয়ে খোকসা এলজিডি অফিস সূত্রে জানা যায়,  কয়েকটি জায়গা ভাঙ্গা ব্যয় বাবদ ৪০,৭৯,১৮৮ টাকা খরচ হয়েছে। তবে সে টাকা উত্তোলন  হয়েছে কিনা ও বাকি টাকা   সরকারের রাজস্ব খাতে   জমা হয়েছে কিনা তার কোন তথ্য নেই খোকসা এলজিইডি অফিসে।নতুন করে একই রাস্তায় সংস্কার বাবদ ব্যয় ২,২০,৯৫ ০৫১ ধরে একটি চিঠি  এলজিডির হেড অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে।  একই রাস্তা সংস্কারের নামে বারবার টেন্ডার হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের রাজস্ব খাত। তবে সংস্কারের নামে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠে এসেছে দায়িত্ব প্রাপ্ত  কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।  

স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলী, শফিকুল মন্ডল, কাজী শরকত আলী ও সুমন জানান,  ভালো রাস্তা সংস্কারের নামে খোঁড়াখুড়ি করে দুই বছর ফেলে রেখেছে। গাড়িগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনা শিকার হয়। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতাল নিতে নাজেহাল হতে হয়। 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী এস, এম শহিদুল ইসলাম( অ:দা:)সাংবাদিকদের জানান, কাজের জন্য নতুন করে ফাইল এলজিডির হেড অফিসে পাঠানো হয়েছে। আগেকার রাস্তা সংস্কারের  টাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান উত্তোলন করেছেন কিনা তিনি জানেন না। 

এ বিষয়ে অহনার ট্রেডার্সের  ঠিকাদারের  মুঠো ফোনে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন