Logo

সারাদেশ

গার্মেন্টস ছুটির পরই আতঙ্ক

গাজীপুরের উত্তর বিলাসপুরের অলিগলিতে ছিনতাই-চুরির অভিযোগ

Icon

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০৩

গাজীপুরের উত্তর বিলাসপুরের অলিগলিতে ছিনতাই-চুরির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর জেলা শহরের ২৬ নং ওয়ার্ডের উত্তর বিলাসপুর ও আশপাশের এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই বাড়ছে আতঙ্ক। অলিগলি, নির্জন সড়ক ও কম আলোযুক্ত বিভিন্ন পয়েন্টে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তাহীনতা। 

অভিযোগ রয়েছে, গার্মেন্টস কারখানা ছুটির সময়কে টার্গেট করে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় ছিনতাইকারীদের কয়েকটি দল। সুযোগ বুঝে বাড়ি ফেরা শ্রমিক ও পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর উত্তর বিলাসপুর, বিলাসপুর, পশ্চিম বিলাসপুর, পূর্ব বিলাসপুর ও বটতলা এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে সন্ধ্যার পর অপরাধীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে কারখানা ছুটির পর শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার সময় নির্জন সড়ক ও অন্ধকার পয়েন্টগুলোতে ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বেশি। ফলে দিনভর কারখানায় শ্রম দিয়ে ঘরে ফেরা শ্রমিকদের অনেকেই এখন সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়ে চলাচলে আতঙ্কিত থাকেন।

সম্প্রতি উত্তর বিলাসপুরের একটি মসজিদের পাশে সন্ধ্যার পর এক গার্মেন্টস কর্মীর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পর ওই শ্রমিক কান্নায় ভেঙে পড়ে আশপাশের একটি দোকানের কাছে গিয়ে সাহায্য চান। তার কান্না দেখে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে তাকে সান্ত্বনা দেন এবং পরে বাসায় পৌঁছে দেন।

ওই শ্রমিক স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ করে বলেন, সামান্য বেতনে গার্মেন্টসে কাজ করে কষ্ট করে টাকা জমিয়েছিলেন। সেই উপার্জনের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ায় তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই দিন উননূর মসজিদ এলাকায় একটি পিকআপ থেকে আনুমানিক ১০০ ফুট তারসহ মূল্যবান কিছু মালামাল চুরি যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। যার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা।  তবে এসব ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এলাকার কয়েকজন দোকানদার জানান, চুরি-ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মাঝেমধ্যে লোকজন তাদের দোকানের সামনে এসে কান্নাকাটি করেন। কেউ পথ আটকে টাকা-পয়সা নিয়ে যাওয়ার, আবার কেউ মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেন। অনেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চেনেন না বলে জানান।

উত্তর বিলাসপুর ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে ডিবিএল গার্মেন্টসসহ অসংখ্য শিল্প ও পোশাক কারখানা। এসব কারখানায় কাজ করেন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক। তাদের বড় একটি অংশ গাজীপুরের বাইরের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং কর্মস্থলের কাছাকাছি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। নতুন পরিবেশে বসবাসকারী এসব শ্রমিক স্থানীয় রাস্তা ও অলিগলি সম্পর্কে অনেক সময় ভালোভাবে জানেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই তাদের টার্গেট করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কারখানা ছুটির পর শ্রমিকদের চলাচল বাড়লেও ওই সময় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলিতে পুলিশের দৃশ্যমান টহল তেমন দেখা যায় না। ফলে নির্জন পয়েন্টগুলোতে অপরাধীরা সহজেই অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পায়। সন্ধ্যার পর সংঘবদ্ধভাবে কয়েকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করেন না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও অনেক ভুক্তভোগী আইনি ঝামেলার আশঙ্কায় থানায় যেতে চান না। ফলে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসা অভিযোগের চেয়েও বেশি কি না, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। তাদের মতে, নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানো হলে অপরাধপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে।

এলাকাবাসীর কয়েকজন ‘ভাড়াটিয়া রনি’ নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে নানা অভিযোগের কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, রনি অন্য জেলা থেকে এসে এ এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অতীতেও রনির বিরুদ্ধে নানা অপকর্মে সম্পৃক্ততার অভিযোগ স্থানীয়দের কেউ কেউ করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের পরিচয় শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে উত্তর বিলাসপুর ও আশপাশের এলাকায় সন্ধ্যার পর নিয়মিত পুলিশি টহল বাড়ানো, অপরাধপ্রবণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা এবং সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

এলাকাবাসী আরও বলেন, উত্তর বিলাসপুর, বিলাসপুর, পশ্চিম বিলাসপুর, পূর্ব বিলাসপুর ও বটতলা এলাকায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বসবাস করেন। তাদের বড় অংশ স্বল্প আয়ের। সারাদিন পরিশ্রমের পর রাতে বাড়ি ফেরার সময় যদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাই শুধু ঘটনার পর ব্যবস্থা নয়, অপরাধ প্রতিরোধে আগাম নজরদারির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উত্তর বিলাসপুর ও আশপাশের এলাকায় সন্ধ্যার পর পুলিশি টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারিতে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন