শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সদর উপজেলার ১৫ সার ডিলারকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার ১৬ আসামি হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির একজনের জামিন মঞ্জুর করে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। অপর ১৫ আসামির উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
জেল হাজতে যাওয়া আসামিরা হলেন সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, তাপস নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া ও মো. বাদশা মিয়া।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শেরপুর শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করে। পরিদর্শনের সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করা হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অধিক মুনাফার আশায় সরকারি বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ সার কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া সারের আনুমানিক মূল্য ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা, ৮২১ টন ডিএপি সারের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং ১৩৪ টন টিএসপি সারের মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এছাড়া অন্যান্য সারসহ মোট প্রায় ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার ২০ আসামিই বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহ করে জামিন নেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার তাদের মধ্যে ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে একজনকে জামিন দেন এবং উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অপর ১৫ জনকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আব্দুল মান্নান বলেন, ২০ আসামির সবাই বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হন। তাদের মধ্যে একজনের জামিনের মেয়াদ বহাল থাকায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। অপর ১৫ জনের উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বিকে/মান্নান

