Logo

সারাদেশ

মিড ডে মিলের ডিম খেয়ে হাসপাতালে ২০ শিক্ষার্থী

Icon

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৪

অ
মিড ডে মিলের ডিম খেয়ে    হাসপাতালে ২০ শিক্ষার্থী


 স্কুলে গিয়ে লেখাপড়া শেখার কথা শিশুদের। অথচ সেই বিদ্যালয়েই খাবার খেয়ে একের পর এক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। দুই দিনের ব্যবধানে আবারও ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে প্রায় ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (পলাশবাড়ী) এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিড ডে মিলের খাবার পরিবেশন করা হয়। মেন্যুতে ছিল ডিম। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর একে একে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে। তাদের তীব্র পেটব্যথা, বমি ও মাথা ঘোরার উপসর্গ দেখা দেয়। পরে দ্রুত তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিষয়টি বিকেলে নিশ্চিত করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. সজীব মিয়া।

এদিকে, এর মাত্র দুই দিন আগে একই উপজেলার অন্য একটি বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে প্রায় ৩৪ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই উপজেলায় আবারও শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় মিড ডে মিলের খাবারের মান, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে সন্তানদের নিরাপদ খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও পরপর এমন ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। শিশুদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন ঘটনায় দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও জবাবদিহি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

তবে শিক্ষার্থীরা খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে অসুস্থ হয়েছে তা চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই দিন আগের ঘটনার পর আজকেই আমি স্কুল পরিদর্শন করেছি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করেছি। স্কুল কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে। পূর্বের ওই ঘটনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আজকের ঘটনা প্রসঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আজ আবার এমন ঘটনা ঘটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছি। চিকিৎসাধীন শিশুদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

পরপর দুটি ঘটনায় অভিভাবকদের প্রশ্ন বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কি যথাযথ নজরদারি ছিল? একই উপজেলায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে এমন ঘটনা ঘটার পরও যদি খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির দায় কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে যেতে পারে? বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন