ধরলা নদীতে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধে এমপির হুঁশিয়ারি
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩০
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধরলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে স্থানীয়দের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধান। অবৈধভাবে পাথর বা বালু উত্তোলন করতে দেখলে সংশ্লিষ্টদের আটক করে তাঁকে খবর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি উত্তোলনকারীদের কোনো পুলিশ সদস্য সহযোগিতা করলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন সংসদ সদস্য।
সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত সংসদ সদস্যের দেওয়া ১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে হাসান রাজীবকে বলতে শোনা যায়, ‘যখন পাথর তুলবে, ওইগুলাক ধরবেন, তারপর আমাক ফোন দিবেন, দেখি কে তাদের সাহায্য করে।’ এ সময় তিনি অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
গত বুধবার সন্ধ্যায় পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়নের ধরলা সেতু এলাকায় যান সংসদ সদস্য। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের বিষয়টি তাঁর নজরে আনেন। এ কাজে পুলিশের সহযোগিতা রয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। পরে উপস্থিত এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলার সময় সংসদ সদস্য তাঁদের এ বিষয়ে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ওই ভিডিওতে হাসান রাজীবকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘জনগণকে এখন রেডি (প্রস্তুত) হইতে হবে, তা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। ওরা দুইটা–দশটা পুলিশকে লাইনঘাট করিয়া–টরিয়া খায়াদায়া ঠিক থাকবে, ক্ষতি হয়া যাবে সাধারণ মানুষের।’ এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ধরলা নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনের বিষয়ে তাঁদের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু ও পাথর তোলার কারণে নদীর তীর ও আশপাশের ভূপ্রকৃতিতে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। কোথাও কোথাও মাটি ধসে নিচু হয়ে যাচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকা, ফসলি জমি ও স্থানীয় অবকাঠামো নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার সংসদ সদস্য হাসান রাজীব বলেন, বুধবার বুড়িমারীর ধরলা ব্রিজ এলাকায় গেলে স্থানীয় জনগণ তাঁকে অবৈধ পাথর ও বালু উত্তোলন নিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দিতে গিয়ে তাদের এসব বন্ধ করতে ভূমিকা নিতে বলেছেন। তিনি বলেন, এসব দেখে পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণকেও সাহায্যের হাত নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্যের বক্তব্যের ভিডিও তিনি দেখেছেন। তাঁর ভাষ্য, গভীর রাতে অথবা ভোরবেলা নৌকায় করে চরাঞ্চলে গিয়ে নদী বা আশপাশের এলাকা থেকে মাঝেমধ্যে পাথর তোলা হয়। পুলিশ যাওয়ার খবর পেলে তারা সটকে পড়ে। অথচ এখানে পুলিশকে দায়ী করা হচ্ছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এসব ঘটনায় পুলিশের জড়িত হওয়ার কথা নয়। তারপরও পুলিশের কারও বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিকে/মান্নান

