“ কোনো কোনো দিন ফজরের নামাজ পড়তে উঠে দেখি কলে সাপ্লাইয়ের পানি নাই -এ ছাড়াও সকাল ৭টার পর থেকে কলে পানি না থাকা এটা এখন আমাদের প্রতিদিনের ঘটনা”-কথা গুলি বলছিলেন পটুয়াখালী পৌর এলাকার সদর রোডের বাসিন্দা গৃহবধূ জাহিদা খানম শিমুল। একই ধরনের কথা বলেন শহরের পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ মন্দিার দাস,শিমুলবাগ এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ মীম,নবাবপাড়ার এলাকার গৃহবধূ আফরোজা রুপা।
পটুয়াখালী পৌর এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবন যাত্রা পাল্টে গিয়েছে শুধূ মাত্র পৌরসভার সাপ্লাইয়ের পানির অপ্রাপ্যতার উপর ।শহরের অধিকাংশ এলাকায় বিশেষ করে গৃহবধূদের পানির এ ভোগান্তির কারণে নানা রকম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।
সকাল থেকে পনি না থাকায় রাত জেগে পানি ধরে রাখতে হচ্ছে তাদেরকে।অধিকাংশ বাসায় কাজের সহযোগী মহিলারা দিনের বেলায় কাজ করে যাওয়ায় বাসন -পত্র কোন রকম জমানো পানি দিয়ে ধোয়া-মোছার কাজ করা সম্ভব হলেও প্রতিটি বাড়িতেই কাপড় চোপড় ধোয়া নিয়ে বিড়ম্বন পোহাতে হচ্ছে মারাত্নকভাবে।
পটুয়াখালী পৌর এলাকায় বর্তমানে ৯৪৮২ জন গ্রাহকের বিপরীতে ১২ টি পাম্প হাউজ দিয়ে ১৪ টি উৎপাদক নলকূপের মাধ্যমে ১০৬ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে ১০,৩৩২ ঘন মিটার পানি উত্তোলন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে পটুয়াখালী পৌরএলাকায় ৫৭২ টি হস্তচালিত টিউবওয়েলের মাধ্যমে বিভিন্ন স্পটে পানি সরবরাহ করে থাকে।
স্বাধীনতার পরবর্তিতে পটুয়াখালী পৌর এলাকার বিভিন্ন স্পটে ও বাসাবাড়িতে প্রায় ১৮০০ থেকে ১৯০০ টিউবওয়েল বসানো ছিল,যেগুলো দিয়ে পটুয়াখালী পৌরএলাকার অধিবাসীদের পানির চাহিদা মেটানো হতো । যে গুলিতে ৮৫০ খেকে ৯০০ ফুট লেয়ারে সুপেয় পানি পাওয়া যেত। এমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সহ পৌর এলাকার সীমানা বৃদ্ধির পাশাপশি হাই রাইজ ভবন নির্মান করে তাতে পাম্প হাউজ স্থাপনের ফলে পানির লেয়ার এখন ১১০ ফুট থেকে ১২০০ ফুটে চলে যাওয়ায় সেই টিউবওয়েবগুলি এখন অচল হয়ে পরে রয়েছে।স্বাধীনতার পরবর্তী পটুয়াখালী মিউনিসিপ্যালিটির ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সরসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে সীমিত সংখক এলাকায় পানি সরবরাহের কাজ শুরু করে। ২০০৪ সালে ডিপিএইচইড্যানিডা ওভার হেড ট্যাকিংর মাধ্যমে পানি সরবরাহ শুর করে যা বর্তমানে পৌর এলাকার ২৫ বর্গ কলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
পটুয়াখালী পৌর এলাকা সহ জেলায় সুপেয় পানি সরবরাহ করার কাজে নিয়োজিত সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান বলেন“ পটুয়াখালী পৌর এলাকার সীমানা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পানির প্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌরসভা কর্তৃক সরবরাহকৃত পানি দিয়ে চাহিদা পূরণ করা ব্যাহত হচ্ছে। পৌর সভার পুরান উৎপাদক নলকূপগুলির কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়ার পাশাপশি কয়েকটি পাম্প নষ্ঠ থাকায় এ সমস্যাটি বেশী দেখা দিয়েছে।তিনি অরোও জানান, এ সমস্যা নিরসনকল্পে সরকারের ২২ টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ এর প্রকল্প আওতায় সম্ভব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে।সেখানে পটুয়াখালী পৌরসভার জন্য নতুন ৬টি উৎপাদক নলকূপ, ও ৭টি নতুন ওভার হেডট্যাংক নির্মান সহ নতুন পাইপ লাইন নির্মানের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি মন্ত্রনালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।পটুয়াখালী পৌরসভার পানি ও পয়:নিস্কাশন বিভাগের দায়িত্বপাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী এম রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার বলেন“বর্মানে আমরা ১৪ টি পাম্প হাউজের মাধ্যমে ১৮ ঘন্টা পাম্প চালিয়ে ১০,৩৩২ ঘন মিটার পানি উত্থোলন করে তা গ্রাহরকর মধ্যে সরবরাহ করে থাকি,সাম্প্রতিক সময়ের বিদুৎ এর ঘাটতির কারণে পাম্প গুলো থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে পানি উত্তোলন করা ব্যাহত হচ্ছে। দিনে দিনে গ্রাহক বাড়ার সাথে সাথে পানির উপ চাপ বাড়ছে,প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের জন্য আমাদের আরোও ১০ হাজার ঘন মিটার পানির চাহিদা রয়েছে।
এ দিকে পটুয়াখালী পৌরসভার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয।
বিকে/মান্নান

