প্রধান শিক্ষকহীন হিলির ২২ প্রাথমিক বিদ্যালয়
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০৩
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটা বড় অংশে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার মোট ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ২২টি স্কুলেই প্রধান শিক্ষকের চেয়ার শূন্য পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে সহকারী শিক্ষকদেরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে স্কুলগুলোর কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কাজে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের, অন্যদিকে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।=
উপজেলার নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে এই সংকটের চিত্র দেখা যায়। সেখানে প্রধান শিক্ষক না থাকায় একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সবকিছু সামলাতে হচ্ছে। একদিকে স্কুলের দাপ্তরিক কাজ, অন্যদিকে প্রতিদিন নিয়ম করে ক্লাসে যাওয়া এই দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে তাকে নাকাল হতে হচ্ছে। অফিসের কোনো জরুরি কাজ বা কাগজপত্রের চাপ বাড়লেই তাকে ক্লাস ছেড়ে দপ্তরে বসতে হয়, আর সেই ক্লাস নিতে হয় অন্য শিক্ষকদের।
নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম আলমাস বলেন, স্কুলের অফিশিয়াল কাজ সামলানোর পাশাপাশি প্রতিদিন রুটিন ধরে ক্লাস নেওয়া কঠিন ব্যাপার। অফিসের কোনো জরুরি ঝামেলা তৈরি হলে আমার ক্লাসগুলো অন্য সহকর্মীদের নিতে হয়। এতে করে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়।
একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. আইনুনাহার এলি ও মোছা. কাকুলি আক্তার জানান, এমনিতেই বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে, তার ওপর কেউ ছুটিতে গেলে পুরো স্কুলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। ভারপ্রাপ্ত স্যার যখন অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন তার ক্লাসটাও তাদের নিতে হয়। ফলে অতিরিক্ত চাপে তাদেরও সমস্যা হয়।
বিদ্যালয়টির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নিলে পড়া বুঝতে সহজ হয়। কিন্তু শিক্ষক কম থাকায় প্রায়ই ক্লাসের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
এ নিয়ে অভিভাবকরাও চিন্তিত। এক অভিভাবক বলেন, একটি উপজেলায় যদি অর্ধেকের বেশি স্কুলে প্রধান শিক্ষক না থাকে, তবে পড়াশোনার মান কীভাবে ভালো হবে? একজন সহকারী শিক্ষককে যখন প্রশাসন ও ক্লাস দুটোই সামলাতে হয়, তখন পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা দরকার।
হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জামান আলী বলেন, সহকারী শিক্ষকদের ওপর এভাবে অতিরিক্ত ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়ায় তারা মানসিক ও পেশাগত চাপের মুখে আছেন। এতে কাজের গতিও কমে যাচ্ছে।
হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু মোত্তালেব আলম জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় কিছু বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা গেলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গতিশীলতা এবং পাঠদানের মান আরও বাড়বে
বিকে/মান্নান

