Logo

সারাদেশ

অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে কুবিতে মানববন্ধন ‎

Icon

‎কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪২

অ
অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে কুবিতে মানববন্ধন   ‎

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। 

‎মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন এবং সিন্ডিকেট সদস্য বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী, বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলাসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা। ‎এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বিচারের নামে প্রহসন– মানি না মানবো না’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই– অপ্রতীম হত্যার বিচার চাই’, ‘জানোয়ারের ক্ষমা নাই– অপ্রতিম হত্যার বিচার চাই’, ‘অপ্রতিমের রক্ত– বৃথা যেতে দেবো না’, ‘খুনির কোনো ছাড় নাই– ফাঁসি ছাড়া নিস্তার নাই’, ‘দাবি মোদের একটাই– অপ্রতিম হত্যার বিচার চাই’, ‘ন্যায়ের জন্য লড়াই হবে– হত্যাকারীর ফাঁসি হবে’ এসব স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, অভিযুক্তদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।

মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাব আহমেদ সোহাগ বলেন, “আজ থেকে প্রায় এক মাস আগে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়, তারপরও বিচারের দাবিতে আমাদের এখানে মানবন্ধন করাটা আসলে লজ্জাজনক। এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার বিভাগের দ্বিচারিতা করছে। তারা আমাদের সামনে কিছুই প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। তাদেরকে কিশোর বলে প্রমাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা চাই বায়োলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা হোক।”

আরেক শিক্ষার্থী শানীন অশ্রু বলেন, “অভিযুক্তরা ১৮ বছরের নিচে হলেও প্রচলিত আইন পরিবর্তন করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, এই হত্যাকাণ্ডের কোনো অপরাধী যেনো আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে না যায়। এরা যদি শাস্তির সম্মুখীন না হয় তাহলে পরবর্তীতে আরো বড় ধরনের অপরাধ করবে। কারণ তারা বিশ্বাস করে ফেলবে দেশের বিদ্যমান আইন তাদেরকে কিছুই করতে পারবে না। এই বিশ্বাস থেকেই তারা পরবর্তীতে দেশে জঙ্গিবাদ, অপহরণ, হত্যা সহ দেশে বিভিন্ন অরাজকতার সৃষ্টি করবে।”

মানববন্ধনে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন এবং সিন্ডিকেট সদস্য বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী বলেন, “যেখানে আমরা আজকে মানববন্ধন করছি, সেখানে অপ্রতিমের বাবাকে কোর্টে ঘুরতে হচ্ছে। যতদিন এই বিচার নিষ্পত্তি না হবে; যতদিন আমরা অপ্রতিম হত্যার বিচার না পাব, ততদিন আমরা রাস্তায় দাঁড়াবো। রাষ্ট্রের কর্ণধার যারা আছেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবো। অপ্রতিম হত্যার ব্যাপারে কোনো প্রহসনমূলক বিচার আমরা মানবো না। অপ্রতিমের হত্যাকারীদের সংশোধনাগারে পাঠিয়ে এই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা মানবো না।

তিনি আরো বলেন, “আমরা বাংলা বিভাগ পরিবার প্রথম থেকে সোচ্চার আছি। যতদিন পর্যন্ত অপ্রতিম হত্যার বিচার না হবে, যতদিন পর্যন্ত খুনিদের ফাঁসি না হবে, ততদিন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে যাব।”

বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা বলেন, “বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। আমাদের সন্তানেরা মারা যাচ্ছে কিন্তু আমরা এর যথার্থ বিচার পাচ্ছি না। আমরা যদি একটা সুষ্ঠু সমাজ নির্মাণ করতে চাই, তাহলে আমাদেরকে বিচার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলার এমন অবনতি আমরা চাই না। আমরা প্রশাসনের কাছে জননিরাপত্তা এবং অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচারব্যবস্থার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট; তারা যেন অপরাধীদের আইনের কোনো ফাঁক-ফোকর বা বয়সের অজুহাতে বিচার থেকে রেহাই না দেয় সেই দাবি জানাচ্ছি।”

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৬), মো. কামরুল হাসান(১৫) ও মো. সিয়াম(১৫) নামের ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এবং তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন