ডাক্তারের সহকারী সুমন নিজেই ‘বড় ডাক্তার’
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:২৫
ছবি : বাংলাদেশের খবর
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগের সহকারী সুমনের বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা, রোগী দেখা ও অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সুমন নিজেই রোগীদের এক্সরে ও চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন, প্লাস্টার করছেন এবং সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অর্থপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. শহীদুল আজমের সহকারী সুমন আউটডোরে ২১৫ নম্বর কক্ষের পাশে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে এক্সরে করানোর নির্দেশ দেন। এরপর প্লাস্টারের সরঞ্জাম নেই দাবি করে বাহির থেকে সরঞ্জাম কিনতে বলেন। কোনো সময় সরাসরি রোগীদের কাছ থেকে ১২০০-২০০০ টাকা গ্রহণ করেন। যারা বাহির থেকে সরঞ্জাম কিনে আনেন, তাদের কাছ থেকেও ৫০০-১০০০ টাকা বকশিস নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুমনের এ ধরনের কার্যকলাপ অত্যন্ত অপেশাদার ও হয়রানিমূলক। এক রোগীর স্বজন নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলের হাতে প্লাস্টার করার জন্য বাহির থেকে সব সরঞ্জাম কিনে দিয়েছি। এরপরও সুমন আমার কাছ থেকে ২১০০ টাকা দাবি করেন। অনেক অনুরোধের পর ৬০০ টাকা দিয়ে কাজ করিয়েছি।’
তবে সুমনের দাবি, হাসপাতালে প্লাস্টারের সরঞ্জামের সাপ্লাই নেই। তিনি রোগীদের বাহির থেকে সরঞ্জাম কিনে আনতে বলেন। অনেক সময় বেঁচে যাওয়া সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ করেন, যার জন্য অর্থ আদায় করেন।
তবে রোগীরা অভিযোগ, তিনি অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন এবং অনৈতিকভাবে চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন।
অর্থপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. শহীদুল আজম বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব। যদি কোনো অনিয়ম ঘটে থাকে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলব।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহাউদ্দিন বলেছেন, ‘অভিযোগটি এখন জানলাম। তদন্ত করে দেখব। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আফ্রিদি আহমদ/এমজে

