Logo

সারাদেশ

মামলাকে কেন্দ্র করে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

Icon

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৫, ১৬:৩৩

অ
মামলাকে কেন্দ্র করে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

আহত একজনের ছবি।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় হত্যা ও ধর্ষণ মামলাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কাশিনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কাশিনাথপুর এলাকায় গ্রাম্য দলাদলি দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। আওয়ামী লীগের দুই সামাজিক মাতব্বর, ইউপি সদস্য আকমাল খান ও সাইফুল ইসলামের মধ্যে এই বিরোধ ছিল। ২৪ জুলাই আকমাল খানের সমর্থকরা সাইফুল ইসলামের ছেলে রানা আহমেদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর থেকেই দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল।

এ ছাড়া কয়েকদিন পর সাইফুল ইসলামের সমর্থকদের বিরুদ্ধে আকমাল খানের সমর্থকরা ধর্ষণ মামলা করেন। এ মামলার আসামিরা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। এরই মধ্যে সাইফুল ইসলামের সমর্থকরা কিছুদিন ধরে বাদী ও অন্যান্য সামাজিক নেতাদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দিতে থাকেন। এ ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে আকমাল খানের সমর্থক সুজাত বিশ্বাসকে কাশিনাথপুর ব্রিজ এলাকায় মারধর করা হয়। পরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কিছু সময় পরই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে আছালত খান, সেলিম খান, নিজাম খান, গাজের উদ্দিন, সুজাত বিশ্বাস, রোজিনা খাতুন, কুলসুম বেগম, সাদ্দাম হোসেন, তুহিন খান, ইসলাম খান, হোসাইন খান, আমির মণ্ডলসহ বিভিন্ন বয়সী পুরুষ ও নারী আহত হন। তাদের মধ্যে রোজিনা খাতুন ও আছালত খানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আহতদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আকমাল খানের সমর্থক হাফিজুল বিশ্বাস বলেন, ‘হত্যা মামলায় আমাদের সমর্থকরা জেলহাজতে থাকার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং জমির ফসল তুলে নিয়েছে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তারা আমাদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু আমরা মামলা তুলে নিতে অস্বীকার করলে শনিবার সকালে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়।’

অপর দিকে, সামাজিক মাতব্বর সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তাদের কোনো হুমকি দিইনি। তারা আমাদের ছেলেকে হত্যা করেছে। আর আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে মামলা তুলে নিতে বলছে। শনিবার সকালে হামলা চালিয়ে আমাদের কয়েকজনকে গুরুতর আহত করেছে।’

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, ‘কাশিনাথপুর গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধ এখন একেবারে সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। গ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চাপা উত্তেজনা এখনো বিদ্যমান রয়েছে।

এম বুরহান উদ্দীন/এমজে

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন