Logo

সারাদেশ

কুমিল্লার যেসব গ্রামে কেউ আত্মীয়তা করতে চান না

Icon

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৫, ২১:১২

অ
কুমিল্লার যেসব গ্রামে কেউ আত্মীয়তা করতে চান না

দীর্ঘ বছর ধরে কোনো প্রকার সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয়রা দুর্গন্ধে বসবাস করতে পারছে না। এমনকি বর্তমানে এসব গ্রামগুলোর অবস্থা এমন দেখা দিয়েছে যে, ময়লার দুর্গন্ধের কারণে কেউ আত্মীয়তাও করতে চান না। বিয়ে হলেও বেড়াতে আসতে চায় না জামাই ও আত্মীয়রা।

জানা যায়, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ঝাঁকুনিপাড়া-দৌলতপুরে বিবির বাজার সড়কের পাশে বাজগড্ডা, খামার কৃষ্ণপুর, শুয়ারা, জগন্নাথপুর, নবগ্রাম, বালুতুপাসহ আশপাশের আরও কয়েকরি গ্রামের অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ এ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এ বর্জ্যের দুর্গন্ধের সমস্যা সমাধানে স্থানীয় লোকজন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করলেও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লা নগরের বর্জ্য ফেলার জন্য বেশ কয়েক বছর আগে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ঝাঁকুনিপাড়া-দৌলতপুর গ্রামে প্রায় ১০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। আগে কুমিল্লা পৌরসভা এখানে ময়লা ফেলত। ২০১১ সালে কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভাকে নিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠিত হয়। এরপর থেকেই নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ ময়লা এখানে ফেলছে সিটি করপোরেশন।

শুয়ারা গ্রামের সাদিয়া নামের তিন সন্তানের জননী বলেন, আমার মেয়ের ছয় বছর আগে বিয়ে হয়েছে সামবকসী এলাকার জালালের সাথে। সে এ দুর্গন্ধের কারণে মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে বেড়াতে আসতে চায় না। আমরা হয়তো এ গন্ধ নাকে নিতে নিতে সহ্য হয়ে গেছে। এ দুর্গন্ধের কারণে ছোট মেয়েটাকে বিয়ে দিতে পারছি না।

সাইফুল নামের আরেকজন বলেন, অসুস্থ হয়ে পড়াটাই এখন বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। শিশুদের সুস্থ রাখতে শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার অন্যতম সংগঠক শাহাজাদা এমরান বলেন, নগরীর বিভিন্ন খোলা স্থানেও ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলার কারণে ওই এলাকার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। দ্রুত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করতে হবে। সেটা না হলে সামনে ভয়াবহতা আরও বাড়বে। এমনকি বিয়েসাদীসহ আত্মীয় স্বজনরা সম্পর্ক ঠিক রাখতে চাইবে না এটা অস্বাভাবিক কিছুই না।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব বলেন, সেখানে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। সিটি করপোরেশন থেকে বলা হয়েছে, তারা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে বর্তমানে প্রকল্পটি কোনো পর্যায়ে রয়েছে, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন চিশতী বলেন, বর্জ্য গুলো জ্বালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এখন আপাতত জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলছে। সেটা শেষ হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ শুরু হবে।

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ/এমবি

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন