Logo

সারাদেশ

১১ দিনেও দহগ্রাম সীমান্ত থেকে কাঁটাতারের বেড়া সরায়নি বিএসএফ

Icon

মাল্টিমিডিয়া করেসপন্ডেন্ট, লালমনিরহাট

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:৩৪

অ
১১ দিনেও দহগ্রাম সীমান্ত থেকে কাঁটাতারের বেড়া সরায়নি বিএসএফ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সীপাড়া সীমান্তে বিজিবির বাধা উপেক্ষা করেই গত শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক পিলারের ৮ বাই ৪১ এস পিলারের অভ্যন্তরে শূন্যরেখা (নো ম্যান্স ল্যান্ড) বরাবর আকস্মিকভাবে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে বিএসএফ এবং এর দুদিন পরই আবার বেড়ায় মদের বোতল ঝুলিয়ে দেয় সংস্থাটির সদস্যরা।

অথচ বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে বেড়া দেওয়া বন্ধসহ তা খুলে নেওয়ার কথা বলা হয় কিন্তু ১১ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো ওই বেড়া সরিয়ে নেওয়া হয়নি। এর ফলে নতুন করে সীমান্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে সীমান্তের অন্যান্য জায়গার চেয়ে ভৌগলিক কারণে দহগ্রামের বাংলাদেশিদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। কারণ, দহগ্রাম ইউনিয়ন ভারতের ভেতরে অবস্থিত। ২২ বর্গকিলোমিটারের এ ভূখণ্ডে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন। ভারতের তিন বিঘা করিডোর ব্যবহার করে বাংলাদেশের দহগ্রাম ইউনিয়নে প্রবেশ করতে হয়।

এদিকে বিএসএফের দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আলোকে তারা সীমান্তে বেড়া নির্মাণ করছে। এর ফলে গত কয়েকদিন ধরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি রয়ে গেছে এই এলাকায়। এ নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন অংশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, এরকম বেড়া দেওয়া শুরু করেছে ভারতের বিএসএফ। আগে তো এরকম বেড়া দেয়নি। কিছু কিছু জায়গায় যেখানে বেশি একটু সমস্যা হয় সেখানে দিয়েছে। কিন্তু ইদানিং ওরা কোনো জায়গা বাদ দিচ্ছে না।

একটি সূত্র জানায়, সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের ওই বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয় যে, পরবর্তী সময়ে উভয় দেশের ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের সম্মতিতে সরেজমিনে যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মপন্থা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকবে, তবে নির্মাণ বেড়া সরিয়ে নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে কেউ সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।

এ বিষয়ে রংপুর-৫১ বিজিবির সহকারী পরিচালক (এডি) পরিচালক আমীর খসরুর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিক যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি রাতে পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসুতি সীমান্তে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবির বাধার মুখে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তারও আগে গত ১ জানুয়ারি পাটগ্রামের দহগ্রাম ইউনিয়নের সরকারপাড়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের চেষ্টা করলে বিজিবির প্রতিবাদ ও বাধার মুখে সেখান থেকে ফেরত যায় বিএসএফ। 

রাহেবুল ইসলাম টিটুল/বিএইচ 

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন