জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার দখলে কর্মচারীদের কোয়ার্টার
সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ, কুমিল্লা
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৫০
ছবি : বাংলাদেশের খবর
কুমিল্লা জেলা পরিষদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত কোয়ার্টারটি বর্তমানে দখল করে আছেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমুন নেছা। যদিও কোয়ার্টারের নথিপত্র অনুযায়ী, এটি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আকতার হোসেনের জন্য বরাদ্দ, কিন্তু তাসলিমুন নেছা সেখানে বসবাস করছেন। এই অনিয়মের ফলে সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন কর্মচারীরা।
২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে কুমিল্লা জেলা পরিষদে যোগদানের পর কর্মচারী আকতার হোসেনের নামে বরাদ্দ কোয়ার্টারটি দখল করেন তাসলিমুন নেছা। কোয়ার্টারের মাসিক ভাড়া ৬ হাজার টাকা হলেও তাসলিমুন নেছার জন্য ১৫ হাজার টাকা ভাড়া বরাদ্দ রয়েছে। এর ফলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ কোয়ার্টারটি তিনি দখল করে রেখেছেন, যা কর্মচারীদের জন্য ক্ষতিকর এবং অব্যক্ত ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্মচারীরা বলেন, এ নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর কোনো সুযোগ নেই। কারণ, এর বিরুদ্ধে কথা বললে বদলি বা অন্যান্য সমস্যা হতে পারে। বেশ কয়েকজন কর্মচারী এই বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকার করেন।
এছাড়া এই নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরও বেশকিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তিনি গণ কবরস্থানের নামে টাকা হাতিয়ে নিতেন এবং সম্মানি ভাতা গ্রহণের সময় নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তা গ্রহণ করতেন।
সূত্রে জানা গেছে, ৩৪ বিসিএসের এই কর্মকর্তা বিগত সরকারের আস্থাভাজন ছিলেন। ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পছন্দের। তাই কোনো নিয়মকে মান্য না করেই চকরি জীবনের ৮ বছরের ৬ বছরই কুমিল্লায় কাটিয়েছেন তিনি।
গত ৮ জানুয়ারি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাসলিমুন নেছাকে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে জামালপুর জেলা পরিষদে বদলি করা হয়। তবে তিনি এই বদলি আদেশের পরও ১৩ দিন পর্যন্ত কুমিল্লা জেলা পরিষদেই ছিলেন। সবশেষ, গত ২০ জানুয়ারি উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদের স্বাক্ষর করা আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তাকে নেত্রকোনা জেলা পরিষদে বদলি করা হয়, কিন্তু তাসলিমুন নেছা এখনো সেখানে যাননি।
এদিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, তাসলিমুন নেছা জেলা পরিষদের গাড়ি ব্যবহার করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। তবে এতে জেলা পরিষদের কেউ যান না, বরং তার স্বামী (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক) তারিক হোসাইন গাড়িটি ব্যবহার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে তাসলিমুন নেছা বলেন, ‘আমি কাজের সুবিধার্থে কোয়ার্টারে থাকি, কারণ আমার বাসা অনেক দূরে।’ স্বামীর সরকারি গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাজের প্রয়োজনে যখন যাই, তাকে নামিয়ে দিয়ে আসি।’ আমি কোনো অনিয়ম করি না।’
জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার জানান, ‘তাসলিমুন নেছার বদলির আদেশের পরও কোনো কর্মকর্তা যোগদান না করায় বদলি এখনো কার্যকর হয়নি।’ অন্যদিকে, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্নীতিবাজরা খুবই চালাক। তারা কীভাবে এসব বদলির অর্ডার বন্ধ করে রাখে, তা আমার জানা নেই। তবে অর্ডার কপি অনুযায়ী তিনি চলে যাওয়ার কথা। উনার দুর্নীতির বিষয়ে খবর নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করব।’
এটিআর/

