বাগেরহাটে হাসাপাতালে অনিয়ম, দুদকের অভিযান
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:৪৪
ছবি : বাংলাদেশের খবর
নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, রোগীদের সাথে নার্স চিকিৎসকদের অসদাচারণসহ বিভিন্ন অভিযোগে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণও পেয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে ২ ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযান চালানো হয়।
দুদক কর্মকর্তারা প্রথমেই বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দারের সাথে কথা বলেন।এরপরেই তত্ত্বাবধায়ককে সাথে নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে অভিযান পরিচালনা করেন দুদক কর্মকর্তারা।
অভিযানে হাসপাতালের রান্নাঘরে অনিয়ম, রোগীদের খাবারে কম দেওয়া, চিকিৎসকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও সঠিক সময়ে হাসপাতালে না আসা, রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার, হাসপাতালে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি ক্লিনিক ডায়গনস্টিক সেন্টারে রোগ নির্ণয় পরীক্ষার জন্য চাপ প্রয়োগের সত্যতা পায় দুদক। দুদকের এমন ঝটিকা অভিযানে খুশি রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মো. মোজাফফর হোসেন মোজাম বলেন, ‘পেটের ব্যথা নিয়ে ডাক্তার দেখাতে আসছিলাম। অনেকগুলো পরীক্ষা দিয়েছে। হাসপাতালের টয়লেট, খাবার বণ্টনে গাফিলতি রয়েছে। নার্স ও চিকিৎসকদের ব্যবহারও অনেক খারাপ। দুদক যে অভিযান চালিয়েছে এতে আমরা খুব খুশি।’
আরেক রোগী মিন্টু বলেন, ‘হাসপাতালে আমরা তেমন কোন সেবা পাই না। দুর্নীতির কোন শেষ নেই। রোগীদের খাবার ঠিকমতো দেওয়া হয় না। দুদক অভিযান চালিয়েছে, এখন যদি কিছুটা ভাল হয় নার্স ও ডাক্তাররা।’
অভিযান শেষে দুদক বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হাসপাতালে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সিটি ল্যাবসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ডায়গনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার জন্য রোগীদের চাপ দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নার্স ও চিকিৎসকদের দুর্ব্যবহারেরও প্রমাণ পেয়েছি আমরা। হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, যারা আছেন তারাও ঠিক মতো আসেন না। রোগীদের খাবার নিয়েও অভিযোগ ছিল। আমরা রান্নাঘর পরিদর্শন করেছি।’
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসাপাতালে প্রতিদিন ৪ থেকে সাড়ে ৪‘শ রোগী ভর্তি থাকেন এবং বহির্বিভাগে সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসা গ্রহন করে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।
শেখ আবু তালেব/এমআই

