খেলাপি ঋণ ৩৫% হওয়ার শঙ্কা গভর্নরের, ব্যাংক খাত উন্নয়নে লাগবে এক দশক
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:৪৯
ছবি : সংগৃহীত
উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ-কে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের জন্য ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নতুন শ্রেণিবিন্যাস নীতি এবং হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন : অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর ড. মনসুর বলেন, যদিও আর্থিক খাত বৈদেশিক খাত ব্যবস্থাপনা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে অগ্রগতি দেখিয়েছে, কিন্তু উচ্চ খেলাপি ঋণ এখনও একটি গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা।
তিনি উল্লেখ করেন, খেলাপি ঋণের বিদ্যমান পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু বর্তমানে নতুন শ্রেণিবিন্যাস নীতি অনুসরণ এবং তথ্য হালনাগাদ করা হলে এই হার অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। এই পরিমাণ খেলাপি ঋণ আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
এই গুরুতর সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। তিনি জানান, খেলাপি ঋণের এই বিশাল বোঝা থেকে ব্যাংক খাতকে মুক্ত করতে ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গভর্নর ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনসহ ইসলামী ব্যাংকের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুশাসন জোরদার করতে বড় ধরনের সংস্কারের কথা তুলে ধরেন।
মূল নিয়ন্ত্রক সংস্কারের মধ্যে রয়েছে- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন, ব্যাংকের বোর্ডে স্বাধীন পরিচালক সংখ্যা ৫০ শতাংশে উন্নীতকরণ, পারিবারিক মালিকানা ১০ শতাংশে সীমাবদ্ধ করা, আমানত বীমা স্কিম শক্তিশালী করা (কাভারেজ বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা), দেউলিয়া আইন আধুনিকায়ন এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন।
তিনি বলেন, পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনসহ একটি নতুন শক্তিশালী ব্যাংক গঠন করা হবে। পাশাপাশি, নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
গভর্নর আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী সরকার এই সংস্কারগুলো অব্যাহত রাখবে, যা একটি শক্তিশালী এবং আরও স্থিতিশীল আর্থিক খাত গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য কেবল ব্যাংকের ওপর নির্ভর না করে বন্ড বাজারকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এমএইচএস

