Logo

অর্থনীতি

টিআইবি বাস্তব সংস্কার কার্যক্রম দেখতে ব্যর্থ হয়েছে : অর্থ উপদেষ্টা

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০৬

টিআইবি বাস্তব সংস্কার কার্যক্রম দেখতে ব্যর্থ হয়েছে : অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্বর্তী সরকারের বাস্তব সংস্কার কার্যক্রম দেখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘টিআইবির লোকজন চোখে সবকিছু দেখতে পারে না। ওদের তো দিব্য দৃষ্টি নেই, ভালো দৃষ্টিও নেই। দেখতে চাইলেও অনেক কিছু তারা দেখতে পারে না।’

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আগের দিন টিআইবি দাবি করেছে—এই সরকার যতটা দৃশ্যমান দেখাচ্ছে, বাস্তবে উন্নয়ন বা সংস্কার ততটা হয়নি। এ প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, টিআইবি শুধু আইনকানুনের দিকটাই দেখে। অথচ সরকার অনেক প্রক্রিয়া সহজ করেছে, যেগুলো তারা দেখছে না। আগে বিদেশি মজুরি প্রকল্পে অনুমতি নিতে হতো, এখন সেটি সহজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি না সব স্বয়ংক্রিয় হয়েছে, কিন্তু অনেক কিছুই সহজ করা হয়েছে। এসব তারা কেন দেখছে না—সে প্রশ্নও আছে।’

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে তিনি টিআইবির প্রশংসা করতেন, আর ক্ষমতায় গেলে সবাই টিআইবিকে বাঁকা চোখে দেখে—এমনটি নয়। তিনি বলেন, তিনি এখনো টিআইবির বদনাম করছেন না। তবে যেগুলো মৌলিক বিষয়, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়ার কথা বলছেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কেউ যদি না দেখার ইচ্ছা করে, তাহলে অনেক কিছুই উপেক্ষা করা যায়। নিজেকে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তাঁকে কখনো বাইরে বসে অযথা সমালোচনা করতে দেখা যায়নি; তিনি সব সময় মূল বিষয়গুলো নিয়েই কথা বলেছেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন—এ কথা উল্লেখ করে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষের প্রত্যাশা অবশ্যই থাকে। সরকারও ভেবেছিল ধাপে ধাপে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু সংস্কার করতে গেলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ভেতরে গিয়ে তিনি দেখেছেন, প্রক্রিয়ায় এত গলদ রয়েছে যে তা কল্পনাও করা যায় না। তারপরও অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনেক কাজ তিনি করেছেন বলে দাবি করেন। অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত কাজ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্য অনেক উপদেষ্টার মধ্যেও হতাশা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তিনি সিভিল সার্ভিস থেকে এসেছেন এবং প্রশিক্ষিত। কীভাবে কী করতে হয়, তা তিনি জানেন। কিন্তু সবার তো সেই অভিজ্ঞতা নেই। সহযোগিতা না পেলে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের মতো দেশে কাজ করা সত্যিই কঠিন—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত জটিল এবং নানা ধরনের হস্তক্ষেপ রয়েছে, যা জট ছাড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।

এটি আমলাতান্ত্রিক সমস্যা কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই আমলাতান্ত্রিক একটি অংশ রয়েছে। পাশাপাশি যারা আইন তৈরি করেছে, তারাও অনেক ক্ষেত্রে আইন ভালোভাবে করেনি। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর সময়ে ব্যাংকে এক পরিবার থেকে দুই বা তিনজন পরিচালক থাকতেন। পরবর্তী সময়ে সেটি বাড়িয়ে ছয়জন করা হয়েছে, যা পেছনের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।

দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে দেশের অর্থনীতিকে কোন অবস্থায় রেখে যাচ্ছেন—এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তাঁর মতে অর্থনীতি এখন একটি সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। সামনে যে সরকার আসবে, তাদের খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হবে না।

এই সরকার সর্বোচ্চ ঋণ করেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ ঋণ যেমন নেওয়া হয়েছে, তেমনি সর্বোচ্চ ঋণ শোধও করা হয়েছে। ছয় বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঋণ শোধের দায়িত্ব তাঁর হলেও এর সুফল ভবিষ্যৎ সরকার পাবে।

উন্নয়ন আগের মতো হয়নি—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজ থেমে গেছে, কারণ আগের মতো অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল প্রকল্প নেওয়া হয়নি। উদাহরণ হিসেবে কর্ণফুলী টানেলের মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তাহলে এত ঋণ নিতে হলো কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের সময় নেওয়া দায়বদ্ধতা সরকার বাতিল না করায় ঋণ নিতে হয়েছে।

অর্থনীতি সন্তোষজনক হলেও বেকারত্ব বেড়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ছোট ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো দরকার ছিল, কিন্তু সে জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় কারখানাগুলোতে শ্রমনির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম।

সবশেষে অর্থনীতি সন্তোষজনক বলা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, সন্তোষজনক বলতে তিনি স্থিতিশীল অবস্থার কথা বোঝাচ্ছেন। অর্থনীতি আগের মতো নড়বড়ে অবস্থায় নেই এবং ভবিষ্যৎ সরকার এটি এগিয়ে নিতে পারবে।

এএস/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

টিআইবি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর