ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়েছে। বর্তমানে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিন শেষে রিজার্ভের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দিনশেষে রিজার্ভ প্রায় ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ বেড়ে হয়েছিল ৩৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে তখন রিজার্ভ ছিল প্রায় ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।
২ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ হিসাবে ২৮ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলারে। বিপিএম-৬ হিসাবে তা ছিল ২৮ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। ৮ জানুয়ারি রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ হিসাবে ২৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। তবে আকুর দায় বাবদ ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ কিছুটা কমে যায়।
আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে মোট রিজার্ভ প্রায় ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ হিসাবে তা প্রায় ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।
ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরের ধারাবাহিকতায় জানুয়ারিতেও প্রবাসীরা তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন।
চলতি ফেব্রুয়ারিতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। মাসটির প্রথম ১৬ দিনে দেশে এসেছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে এর পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ৪৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ৪ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা বেশি। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪০ কোটি ডলার। সদ্য বিদায়ী জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা মোট ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। পরে অনিয়ন্ত্রিত অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন কারণে রিজার্ভ কমতে কমতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় তা নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন গভর্নর এখন পর্যন্ত রিজার্ভ থেকে এক ডলারও বিক্রি করেননি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকার আশপাশে স্থিতিশীল রয়েছে। আমদানিতে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও বর্তমানে ডলার সংকট বা বাজারে অস্থিরতা নেই।
এএস/

