দেশের বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চেয়ারম্যানশূন্য। গত ২ মার্চ চেয়ারম্যান এম আসলাম আলম পদত্যাগ করার পর এখনো নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়নি সরকার। এতে সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আইডিআরএ কর্মকর্তারা বলছেন, চেয়ারম্যান না থাকায় অনেক নীতিগত সিদ্ধান্ত আটকে আছে। সদস্যরা নিয়মিত কাজ চালিয়ে নিলেও চেয়ারম্যানের অনুমোদন প্রয়োজন- এমন বেশ কিছু কাজ এখন এগোচ্ছে না।
আইডিআরএ’র একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশে বর্তমানে লাইফ ও নন-লাইফ মিলিয়ে ৮২টি বীমা কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানির তদারকির দায়িত্ব আইডিআরএ’র। নিয়ম অনুযায়ী বীমা কোম্পানিগুলো যেকোনো আবেদন বা চিঠি চেয়ারম্যানের উদ্দেশে পাঠায়। কিন্তু চেয়ারম্যানের পদটি এখন খালি। কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও করা হয়নি। ফলে অনেক আবেদন ও প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বীমা খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, চেয়ারম্যান না থাকায় নিবন্ধন নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও ঝুলে আছে।
একটি বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, চেয়ারম্যান ছাড়া বর্তমানে বীমা কোম্পানিগুলো বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। আইন অনুযায়ী আমরা ২০২৬ সালের নিবন্ধন ফি গত বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন হয়নি।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই বীমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন নবায়ন সম্পন্ন হওয়ার কথা। কোম্পানিগুলো নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদনও করেছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাস পার হয়ে মার্চের ১১ তারিখ চলে গেলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখনো কোনো কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন করেনি। ফলে সবগুলো বীমা কোম্পানি এখন অনিবন্ধিত প্রক্রিয়ায় অবৈধভাবে ব্যবসা করছে।
এ পরিস্থিতিতে বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) আইডিআরএ’র কাছে লাইসেন্স নবায়নের অবশিষ্ট ফি পরিশোধ থেকে অব্যাহতি চেয়ে লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানিয়ে গত ৮ মার্চ আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি দিয়েছে।
বিআইএর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আদিবা রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, বীমা আইনের ১১(২) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বছরের নিবন্ধন নবায়নের আবেদন আগের বছরের ৩০ নভেম্বরের আগে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হয় এবং এর সঙ্গে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়। একই আইনের ১১(৩) ধারায় বলা হয়েছে, আবেদন ও ফি পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন নবায়ন করবে।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সব বীমা কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ২০২৬ সালের নিবন্ধন ফি জমা দিয়েছে। এর আগে গত ১ মার্চ বিআইএর একটি প্রতিনিধি দল আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে তারা ২০২৬ সালের জন্য বীমা কোম্পানিগুলোর অবশিষ্ট লাইসেন্স নবায়ন ফি মওকুফের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি এ বিষয়ে গেজেট সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান। বীমা আইন অনুযায়ী বৈধ নিবন্ধন ছাড়া কোনো কোম্পানি নতুন পলিসি ইস্যু, প্রিমিয়াম গ্রহণ বা দাবি নিষ্পত্তিসহ নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। তবে বাস্তবে দেশের সব জীবন ও সাধারণ বীমা কোম্পানিই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিবন্ধন না থাকায় কোম্পানিগুলো মানসিক দ্ব›েদ্বর মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালালুল আজিম বলেন, নিবন্ধন নবায়ন ছাড়া কোনো কোম্পানি নতুন পলিসি ইস্যু বা প্রিমিয়াম গ্রহণ করতে পারে না। সে হিসেবে কাগজে-কলমে এখন সব কোম্পানিই নবায়নবিহীন অবস্থায় রয়েছে। তবে এতে বীমা কোম্পানিগুলোর কোনো দায় নেই। আইডিআরএ’র পরামর্শক (মিডিয়া ও যোগাযোগ) ও মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি বলেন, এখন সদস্যরাই কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। আস্তে আস্তে সমস্যাগুলো সমাধান করা হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ না দিলে বীমা খাতে প্রশাসনিক জটিলতা আরও বাড়তে পারে।
বিকেপি/এমবি

