পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটিতে বন্ধ থাকছে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তবে এতে থেমে থাকবে না লেনদেন—বিকল্প ব্যবস্থায় চলবে সব ধরনের আর্থিক কার্যক্রম।
এই সময়ে নগদ টাকার জন্য সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হবে এটিএম বুথ ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) ওপর। গ্রাহকরা কার্ড ব্যবহার করে এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারবেন, পাশাপাশি পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনেও লেনদেন করা যাবে।
এছাড়া bKash, Nagad ও Rocket-এর মতো এমএফএস সেবা চালু থাকবে। ফলে ব্যাংক বন্ধ থাকলেও টাকা পাঠানো, উত্তোলন ও পেমেন্টে বড় কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে দীর্ঘ ছুটিতে অনেক সময় এটিএম বুথে টাকার সংকট দেখা দেয়। এ বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক সব ব্যাংককে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুধু এটিএম নয়—পিওএস, কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সচল রাখতে হবে। এতে গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে লেনদেন চালাতে পারবেন।
বর্তমানে দেশে ১২ হাজারের বেশি এটিএম বুথ ও ৮ হাজারের বেশি ক্যাশ রিসাইকেল মেশিন (সিআরএম) রয়েছে। পাশাপাশি পিওএস মেশিনের সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজারের বেশি। প্রায় ৫ কোটি ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করছেন গ্রাহকরা।
এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার এই বিস্তারের কারণে ঈদের ছুটিতেও আর্থিক লেনদেন থেমে থাকবে না।
সব মিলিয়ে, ব্যাংক বন্ধ থাকলেও বিকল্প ডিজিটাল ও কার্ডভিত্তিক সেবাই হয়ে উঠছে ঈদের সময় লেনদেনের প্রধান ভরসা।

