বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় লাফ, বাড়তে পারে দেশেও
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৮
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এবং দীর্ঘ উত্তেজনার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এক ধাক্কায় প্রতি আউন্স সোনার দাম ৭০ ডলারের বেশি বেড়েছে। বিশ্ববাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে যেকোনো সময় বাংলাদেশের বাজারেও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে
প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৭৯.৩০ ডলার বেড়ে ৪ হাজার ৮৬৭.৮২ ডলারে উঠে এসেছে। বাজার
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি
স্থিতিশীল হওয়ার আভাস পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারা নিরাপদ বিনিয়োগ
হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মূল্যের ওপর। সাধারণত যুদ্ধ বা
বড় ধরণের অস্থিরতা দেখা দিলে সোনার বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতায় দামের ব্যাপক
হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার ইতিবাচক মোড় এই ঊর্ধ্বগতিতে
জ্বালানি জুগিয়েছে।
সোনার দাম বাড়লেও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার
খবরে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরণের ধস নেমেছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট
ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৮ ডলার থেকে কমে এক ধাক্কায় ৮৮ ডলারে নেমে এসেছে। একইভাবে
মার্কিন তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘নাইমেক্স লাইট
সুইট ক্রুড’-এর দামও উল্লেখযোগ্য
হারে হ্রাস পেয়েছে। অথচ গত মার্চ মাসে এই তেলের দাম সর্বোচ্চ ১১৯ ডলারে উঠেছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে ইতিমধ্যেই
দেশের বাজারে কয়েক দফায় সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ
জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা
বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করেছে।
বিশ্ববাজারের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, দেশের
বাজারে সোনার দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাজুসের এক দায়িত্বশীল সদস্য জানান,
“ইরান হরমুজ প্রণালি
খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর থেকেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম হু হু করে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি
বজায় থাকলে বাজুস যেকোনো সময় নতুন মূল্য নির্ধারণ করতে বাধ্য হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের
সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে দাম বাড়ানো ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।”
তেলের দাম হ্রাস এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার
আভাসে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। প্যারিসের সিএসি
এবং ফ্রাঙ্কফুর্টের ডিএএক্স —উভয় বাজারের সূচকই দুই শতাংশের
বেশি বেড়েছে। লন্ডনের এফটিএসই সূচকেও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

