Logo

অর্থনীতি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে দোটানায় সরকার

Icon

এস রহমান খান

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৭

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে দোটানায় সরকার

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের বড় চাপের কারণ এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। বল প্রয়োগ করে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে এটি গঠন করে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার। জোগান দেওয়া হয় বিপুল অর্থও। সূত্রগুলো বলছে, সরকারের একটি অংশ ব্যাংকটি বাঁচিয়ে রাখতে চাইছেও। আদৌ এটি কতটা বাস্তবসম্মত হবে তা নিয়ে দ্বিধা। এক কথায়, ব্যাংকটি নিয়ে এখন দোটানাতে রয়েছে নতুন রাজনৈতিক সরকার। 

অন্তর্বর্তী সরকারের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকিং খাতে সংস্কার উদ্যোগ হাতে নেন। ভেঙে দেন বেশ কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। ব্যাংকগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি বিবেচনায় রাখা হয়। এরপর বেসরকারি এক্সিম, ফাস্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, এসইইবিএল ও গ্লোবালÑ পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠন করা হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। নতুন এই ব্যাংকের মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০০৫ সালের ৩০ নভেম্বর ব্যাংকটি অনুমোদিত হয়। আর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে পরের মাস থেকে। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে, সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার জোগান দেয় মূলধন হিসেবে, আর ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানতকারীদের শেয়ার থেকে। আমানত বীমা তহবিল থেকে আরও ১২ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যায়।

রাজনৈতিক সরকার আসার পর গুঞ্জন তৈরি হয় নতুন এই ব্যাংকটি আদৌ টিকবে কিনা? যদিও, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিকবার মুখে বলছে, মার্জার কাযক্রম তারা চালিয়ে নেবে। তবে সূত্রগুলো বলছে, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পযায়ে এ নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। ওই সব বৈঠকে আলোচনা হয়, যেহেতু সরকার বিপুল অর্থ জোগান দিয়ে ফেলেছে, ফলে, এখান থেকে সরকার চাইলেই সহসা বেরিয়ে যেতে পারছে না। ফলে ব্যাংকটি এখন মাথাব্যথার কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। 

বড় উদ্বেগের নতুন এ ব্যাংকের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ চিন্তা করে কেউ এর হাল ধরতেও চাচ্ছেন না। দায়িত্ব পালন করবেন না বলে জানিয়ে দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও পদে নিয়োগ পাওয়া নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান। নিয়োগ পাওয়ার দুই দিন পর চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে তিনি জানান, একান্ত ব্যক্তিগত কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অপরাগ। 

রাষ্ট্রমালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন গত মাসের মাঝামাঝি। পদত্যাগপত্রে মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া উল্লেখ করেছেন যে ব্যক্তিগত কারণে তিনি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তাকে এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সরকারের সাবেক সচিব।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, ব্যাংকটির মোট আমানতকারী প্রায় ৭৫ হাজার, আর মোট আমানত প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। নতুন স্কিমে ব্যাংকটি দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দিতে শুরু করেছে। তবে সেটিও নানা শর্তের বেড়াজালে। ফলে অনেক গ্রাহক, তাদের সঞ্চয় তুলতে পারছেন না।

সূত্রগুলো বলছে, নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বিভিন্ন স্তরের বৈঠকে, ব্যাংকটি নিয়ে চাপের কথা জানান। তিনি এখান থেকে উত্তরণের উপায় কী তাও জানতে চান। এসময় তিনি সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংককে আগের সরকারের রেখে চাওয়া একটি গলার কাটা হিসেবে আখ্যা দেন বলে বৈঠকের সূত্রগুলো বলছে।

তবে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এখনো আমরা মার্জার পদক্ষেপ থেকে সরে যাইনি। কারণ এখানে বিপুল বিনিয়োগ চলে গেছে। তবে নতুন করে আর মার্জার পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হবে না।  

অন্য একটি সূত্র বলছে, এক্সিম ও এসআইবিএলের শেয়ার হোল্ডারদের একটি পক্ষ, মার্জার পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যাংকটি বের করে নিতে তৎপরতা শুরু করেছে। তারা এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকও করছেন। যেহেতু সরকার ব্যাংক রেজুলেশন আইনে সুযোগ রেখেছে পুরোনো শেয়ার হোল্ডারদের ফেরত আসার সেটিকে কাজে লাগাতে চান তারা। যদিও আইনিট নিয়ে অনেক পক্ষ সমালোচনা করছেন। কিন্তু সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, মার্জার পদক্ষেপ থেকে সরকার যাতে বেরিয়ে যেতে পারে সে সুযোগ উন্মুক্ত করতে আইনে ধারাটি যুক্ত করা হয়েছে। 

অর্থনীতিবিদ ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকটি আদৌ টিকতে পারবে কিনা সেই শঙ্কা দেখা যাচ্ছে। ব্যাংকটি পর্ষদ আর ব্যবস্থাপনায় কেউ যুক্ত হতেও চাচ্ছেন না। তাই নেতৃত্বহীনভাবে এটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ফলে, এটি তিন বছরে ব্যবসায় যাবে, এমন ধারণা এখন অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। তা ছাড়া আমানতকারীরা এই ব্যাংকে আর আস্থা নিয়ে ফিরবে বলে মনে হয় না।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন