Logo

অর্থনীতি

বন্ধ কোম্পানিতে বিনিয়োগে উচ্চ ঝুঁকি

Icon

এম এম হাসান

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২২

বন্ধ কোম্পানিতে বিনিয়োগে উচ্চ ঝুঁকি

প্রতীকী ছবি

বাজারে স্বচ্ছতা আনতে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দীর্ঘবছর ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছিলো প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। উদ্দেশ্য ছিল গুজবনির্ভর লেনদেন ঠেকানো, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করা এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তবে ডিএসইর সেই উদ্যোগ উল্টোভাবে কাজ করেছে বাজারে। তালিকা প্রকাশের পর প্রায় প্রত্যেকটি বন্ধ কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কোনো কোনোটির দাম বেড়েছে দ্বিগুণ-তিনগুণ পর্যন্ত।

কোম্পানিগুলো শেয়ারদর বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ডিএসই যে ৩০টি বন্ধ কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেগুলোর মধ্যে ২৯টির শেয়ারদাম গত ছয় মাসে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কোনো কোনো শেয়ারের দাম ৩৭৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এরপর টানা দরপতন শুরু হলে উচ্চ ঝুঁকিতে পড়ে যান সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

শেয়াবাজারে এর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নিয়ন্ত্রণ আমলে কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে হঠাৎ হঠাৎ বড় উত্থান দেখা যায়। ওইসময়ে বিতর্কিত শেয়ার ব্যবসায়ী আবুল খায়ের ওরফে হিরুকে বিধি-বহির্ভূত অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। একপর্যায়ে হিরুর প্ররোচণায় পড়ে দুর্বল, লোকসানী ও কার্যক্রম না থাকা অনেক কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে সর্বশান্ত হয়ে যান অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী। সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে অস্বাভাবিক উত্থানের পেছনেও এমন কোনো চক্রের যোগসাজশ রয়েছে-কিনা, সেই প্রশ্ন উঠেছে বাজারে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যেসব কোম্পানির কোনো সক্রিয় অস্তিত্ব নেই, সেই কোম্পানিতে যারা বিনিয়োগ করছেন, তারা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। জল্পনা, গুজব কিংবা কারসাজিকারকদের প্ররোচণায় এই সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বাজারে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব গুজব ও কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ওয়াজিদ হাসান শাহ বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে বিনিয়োগ শিক্ষার বিকল্প নেই। আমরা বিআইসিএমের পক্ষ থেকে নিয়মিত বিনিয়োগ শিক্ষার পরিধি বাড়াতে কাজ করছি। আমাদের শেয়ারবাজারে অনেক বিনিয়োগকারীই স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুন রিটার্ন নেওয়ার মানষিকতা রাখেন, যেটি বাস্তবসম্মত নয়। যারা এই ধরনের লোভ করেন, তাদের একশ্রেণি বারবার লোকসান করার পরও আবারো দুর্বল শেয়ারে ঝুঁকি নেন। বস্তুতপক্ষে ওইসব শেয়ারে একটি চক্র বড় রিটার্ন নেওয়ার পর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঘারে ঝুঁকি চাপিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, যেসব কোম্পানিতে দীর্ঘ বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, সেগুলো তালিকাচ্যুত করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে দেখার বিষয় হলো- তালিকাচ্যুত করা হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সর্বশান্ত হয়ে যাবেন কিনা? তাদের বিনিয়োগের ন্যূনতম অংশ হলেও ফেরত দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে তালিকাচ্যুতর পথে এগোতে হবে। অন্যথায়, অন্তবর্তী সরকারের সময়ে পাঁচটি ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ হওয়ায় শেয়ারবাজারে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, সেই প্রভাব আবারো পড়তে পারে।

উৎপাদনহীন কোম্পানির শেয়ারে উত্থান পুরোপুরি অযৌক্তিক বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন। তিনি বলেন, বন্ধ কোম্পানির কোনো মৌলভিত্তি নেই, তবু দাম বাড়ছে, এটি স্পষ্টতই কারসাজির ইঙ্গিত। জল্পনা, গুজব কিংবা কারসাজি-যেটিই হোক নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বাড়ানো উচিত।

বন্ধ কোম্পানিগুলোকে তালিকচ্যুত করার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, যে কোম্পানিগুলো ২০ বছর ধরে বন্ধ। কোনো লভ্যাংশও দিচ্ছে না। সেই কোম্পানিগুলোকে এখনো কেন শেয়ারবাজারে লেনদেন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে? বরং বন্ধ কোম্পানির শেয়ারে লেনদেন চালু রেখে ডিএসই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কার্যত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিতে ফেলছে।

উৎপাদন নেই, তবু শেয়ারদরে উল্লম্ফন: গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ডিএসই ৩০টি বন্ধ কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করে। কোম্পানিগুলো হলো- অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স, অ্যারামিট সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, দুলামিয়া কটন, এমারেল্ড অয়েল, ফ্যামিলি টেক্স (বিডি), জিবিবি পাওয়ার, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ, মেট্রো স্পিনিং মিলস, মিথুন নিটিং, নিউ লাইন ক্লথিংস, নর্দার্ন জুট, নুরানি ডায়িং, প্রাইম টেক্সটাইল, আরএসআরএম, রেজেন্ট টেক্সটাইল, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, রহিমা ফুড করপোরেশন, হামিদ ফ্যাব্রিক্স, ইয়াকিন পলিমার, জাহিন স্পিনিং মিলস এবং দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান-শ্যাম্পুর সুগার মিলস ও উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরিজ।

ওই ৩০ কোম্পানির মধ্যে কেবলমাত্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের জিবিবি পাওয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক পরিস্থিতি অগ্রগতি হওয়ার তথ্য জানিয়েছে। কোম্পানিটি জানায়, তারা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে ১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে চুক্তি করেছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রমও সচল রয়েছে। বাকি ২৯টি কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম এখনো সচল হয়নি। তা সত্ত্বেও কোম্পানিগুলোর প্রত্যেকটির শেয়ারদর গত ছয় মাসে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

গত সেপ্টেম্বর পরবর্তী ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ফ্যামিলি টেক্স (বিডি)-এর শেয়ারদর। এই সময়ের মধ্যে মাত্র ৯০ পয়সা থেকে চার টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছে কোম্পানিটির শেয়ারদর। শতকরা হিসেবে ওই দরবৃদ্ধি ৩৭৭ শতাংশ। আলোচিত ছয় মাসের মধ্যে এক টাকা ৪০ পয়সা থেকে ২২১ শতাংশ বেড়ে অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্সের শেয়ারদর ৪ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে যায়। আর তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িংয়ের শেয়ারদর আলোচিত সময়ে ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এই সময়ের মধ্যে এক টাকা ২০ পয়সা থেকে শেয়ারটির দর চার টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত উঠে যায়।

আলোচিত ছয় মাসের মধ্যে হামিদ ফ্যাব্রিক্সের শেয়ারদর বেড়েছে ১২৬ শতাংশ। এ ছাড়া নিউ লাইন ক্লথিংস, নুরানি ডায়িং এবং সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর ১০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এসময়ে প্রাইম টেক্সটাইলের শেয়ারদর ৮৩ শতাংশ এবং মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তালিকার অন্য কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরও গত ছয় মাসে ৫০ শতাংশের আশেপাশে বেড়েছে। অবশ্য বড় দরবৃদ্ধির পর প্রায় একমাস ধরে সবগুলো কোম্পানিতে একটু একটু করে টানা দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এতে যারা উচ্চ দরে বন্ধ কোম্পানিগুলোর শেয়ার কিনেছেন, তারা এখন উচ্চ ঝুঁকিতে পড়ে গেছেন।

বাড়তি দামে লেনদেনও অস্বাভাবিক, নেই সতর্ক বার্তা: উৎপাদন বন্ধ থাকা ওই কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম যখন আকাশছোঁয়া হয়, ঠিক তখনই একটি শ্রেণি তাদের হাতে থাকা শেয়ারগুলো অন্যের হাতে বাড়তি দামে তুলে দিয়ে বেরিয়ে যায়। যার প্রমাণও পাওয়া যায় লেনদেন চিত্র বিশ্লেষণে। আলোচিত সময়ে প্রায় প্রত্যেকটি কোম্পানিতে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যায় শেয়ার মালিকানায় হাতবদল হয়েছে।

ফ্যামিলি টেক্স (বিডি)-এর শেয়ারে সবচেয়ে দ্রুত উত্থান হয় গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে। এই সময়ে মাত্র ১৫ কার্যদিবসের ব্যবধানে শেয়ারটির দাম এক টাকা ৭০ পয়সা থেকে চার টাকা ৩০ পয়সায় উঠে যায়। আর ওইসময়েই কোম্পানিটির শেয়ার অন্তত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয় ৫ মার্চ, যার পরিমাণ এক কোটি ৩৬ লাখের বেশি। আর ১৬ মার্চও এক কোটি ২৬ লাখ শেয়ারের মালিকানা পরিবর্তন হয়।

অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্সের শেয়ারে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে উত্থান হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ মার্চ। এই সময়ে কোম্পানির শেয়ারদর দুই টাকা ২০ পয়সা থেকে চার টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত উঠে যায়। আলোচিত সময়ে এই কোম্পানিটিরও শেয়ার দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয়। এর মধ্যে ৩ মার্চ ও ১৬ মার্চ দুইদিন ৬৪ লাখেরে বেশি করে শেয়ার লেনদেন হয়।

তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িংয়ের শেয়ারে সবচেয়ে দ্রুত উত্থান হয় গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে। মাত্র ১৫ কার্যদিবসের ব্যবধানে শেয়ারটির দাম দুই টাকা ৩০ পয়সা থেকে চার টাকা ২০ পয়সায় উঠে যায়। ওই সময়ে এই কোম্পানিটির শেয়ারও দুই বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে সংখ্যায় হাতবদল হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয় ৫ মার্চ, যার পরিমাণ ১৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। আর ১৬ মার্চও প্রায় ১৫ লাখ শেয়ারের মালিকানা পরিবর্তন হয়।

শুধু এই তিন কোম্পানিতেই নয়, গত ছয়মাসে যে ২৯টি কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোতেই অস্বাভাবিক লেনদেনও হয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মালিকানার বড় একটি অংশ এক হাত থেকে অন্য হাতে রূপান্তরিত হয়েছে। মাঝখানে বড় অংকের মুনাফা লুফে নিয়েছে সুবিধাভোগী চক্রটি।

গত ছয় মাসে যে ২৯টি বন্ধ কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেন বাড়ার ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে মাত্র দুটি কোম্পানির কাছে কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দেয় ডিএসই। এরমধ্যে হামিদ ফ্যাব্রিক্সের কাছে কারণ জানতে চাওয়া হলে কোম্পানিটি কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। আর প্রাইম টেক্সটাইল জানিয়েছে, এই অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের কারণ তাদের জানা নেই। তাদের কাছে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্যও নেই, যাকে কেন্দ্র করে এমন অস্বাভাবিক উল্লফন হতে পারে। এই দুটি কোম্পানি ছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোর অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের দৃষ্টি অগোচরেই ঘটেছে। সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যেও কোনো সতর্ক বার্তা প্রকাশ করা হয়নি।

কোম্পানিগুলোর লেনদেন চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, বন্ধ কোম্পানিগুলোর যে পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হয়েছে, তার বেশিরভাগই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হাতবদল হয়েছে। বস্তুতপক্ষে দ্রুত সময়ে অধিক রিটার্ন পাওয়ার আসায় গুঞ্জনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এইকটি অংশ ওইসব শেয়ারে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়িয়েছে। আর এই সুযোগে উচ্চ দামে শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে গেছেন সুবিধাভোগী শ্রেণিটি।

এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশ্বজুড়েই কিছু বিনিয়োগকারী আছেন, যারা কম দামের শেয়ারে উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন। অনেকটা জুয়ার মতো তারা এসব শেয়ারে অংশ নেন। এই কোম্পানিগুলোর শেয়ার সংখ্যা কম হওয়ায় সহজেই দাম নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যা তাদের জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এতে শেষ পর্যন্ত ঝুঁকিতে পড়েন এমন কিছু সংখ্যক বিনিয়োগকারী, যারা অন্যের কথায় এই দুর্বল শেয়ারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেন, ডিএসই ও বিএসইসি চাইলে এসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করতে পারত। একই সঙ্গে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা তলব, পুনর্গঠন, একীভূতকরণ বা বিকল্প সমাধানের পথও খোঁজা যেত। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া নিয়ন্ত্রকের অন্যতম দায়িত্ব। তাই বছরের পর বছর উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানির ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

তালিকাচ্যুত করার উদ্যোগ: শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং বা অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, কোম্পানি তালিকাভুক্তি কিংবা তালিকাচ্যুত করার ক্ষমতা স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে ন্যস্ত। ওইসব উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে স্টক এক্সচেঞ্জ যদি মনে করে এগুলো তালিকাচ্যুত হওয়া দরকার, তাহলে সেটি তারা করতে পারে।

এ বিষয়ে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম জানান, বন্ধ কোম্পানিগুলোর কাছে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়েছে। কেউ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে, আবার কেউ কোনো জবাব দেয়নি। যেসব কোম্পানি পুনরায় কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা নেই, সেগুলো ধাপে ধাপে তালিকাচ্যুত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন