দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান টাইগার ভিয়েতনাম এবার বিশ্ব ডিজিটাল অর্থনীতির মানচিত্রে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের 'গ্রে জোন' হিসেবে পরিচিত দেশটি অবশেষে তার বিশাল ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারকে আনুষ্ঠানিক আইনি কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া
'ডিজিটাল প্রযুক্তি শিল্প আইন' এবং পরবর্তী বিশেষ রেজোলিউশনের মাধ্যমে ডিজিটাল সম্পদকে
বৈধ সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে হ্যানয়।
ভিয়েতনাম সরকারের এই সবুজ সংকেত পাওয়ার
পরপরই দেশটির বড় বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং শক্তিশালী সিকিউরিটিজ হাউজগুলো ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ
লাইসেন্স পেতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং স্টেট সিকিউরিটিজ কমিশনের
তথ্যমতে, ইতোমধ্যে পাঁচটি বড় প্রতিষ্ঠানকে এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় লাইসেন্স প্রদানের
প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে ভিপি ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান 'সিএইএক্স'
বিশ্বখ্যাত ওকেএক্স -এর সাথে হাত মিলিয়ে বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে মাঠে নামছে। এছাড়া টেককমব্যাংক
এবং ভিআইএক্স সিকিউরিটিজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও এই নতুন ডিজিটাল অর্থনীতিতে নিজেদের
আধিপত্য বিস্তারে প্রস্তুত।
তবে এই বাজারে প্রবেশাধিকার সবার জন্য
উন্মুক্ত রাখেনি ভিয়েতনাম সরকার। বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে
কঠোর আর্থিক শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একটি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম চালু করতে হলে ন্যূনতম
১০ ট্রিলিয়ন ডং বা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মূলধন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের সীমা ৪৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ রেখে ৬৫ শতাংশ মালিকানা স্থানীয়
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। একই সাথে সাইবার নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ স্তরের কারিগরি মানদণ্ড বজায় রাখার নির্দেশনা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টো
গ্রহণের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের এই উদ্যোগ গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ
করবে। বার্ষিক প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলারের যে বিশাল লেনদেন এতদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল,
তা এখন রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে আসার ফলে একদিকে যেমন জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিং কমবে, অন্যদিকে
সরকার রাজস্ব বাবদ বিপুল আয় করতে সক্ষম হবে। ব্যক্তিগত বিনিয়োগের লাভের ওপর নামমাত্র
কর হার নির্ধারণ করে সরকার সাধারণ মানুষকেও বৈধ প্ল্যাটফর্মে লেনদেনে উৎসাহিত করছে।
ভিয়েতনামের এই সাহসী ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ এখন সমগ্র এশীয় অঞ্চলের ডিজিটাল মুদ্রা
অর্থনীতির জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

