রপ্তানি বাণিজ্যে গতি ফেরাবে প্রি-শিপমেন্ট ঋণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:০৪
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে দেশের রপ্তানি খাতকে স্বস্তি দিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বল্প সুদে ৫ হাজার কোটি টাকার ‘প্রি-শিপমেন্ট’ পুনঃঅর্থায়ন ঋণ সুবিধা পুনরায় চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ১০ হাজার কোটি টাকার ‘রপ্তানি সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন তহবিল’ থেকেই এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশনার আওতায় দেশের সব তফসিলি
ব্যাংক ২ শতাংশ সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে
এই ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার হবে মাত্র ৫ শতাংশ। ইতিপূর্বে রপ্তানিকারকদের অনেক ক্ষেত্রে
১২ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নিতে হতো, যা এখন অর্ধেকেরও নিচে নেমে এলো।
এই স্কিমের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
যে সকল প্রতিষ্ঠান তাদের মোট উৎপাদনের
ন্যূনতম ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে, তারা এই ঋণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। কোনো একক
প্রতিষ্ঠান বা শিল্প গ্রুপ একই সময়ে সুদসহ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিতে পারবে
না। পণ্য জাহাজীকরণের আগের প্রস্তুতিমূলক ব্যয়, যেমন—কাঁচামাল কেনা, উৎপাদন খরচ এবং
শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন
যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশের
তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি খাত চাপের মুখে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতারা
পেমেন্ট দিতে দেরি করায় উদ্যোক্তারা তারল্য সংকটে ভুগছেন। এই পরিস্থিতিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি
ধরে রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ সচল রাখতেই পুনরায় প্রি-শিপমেন্ট ঋণ চালুর সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক
সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,
“বর্তমান সরকার
দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। ৫ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাওয়ায় উৎপাদন
খরচ কমবে এবং বিশ্ববাজারে আমাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।”
একই সুরে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স
অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “শিপমেন্ট দেরি হওয়ার কারণে অনেক সময় মাস
শেষে শ্রমিকদের বেতন দিতে হিমশিম খেতে হয়। এই তহবিল থেকে এখন সহজেই বেতন-ভাতা পরিশোধ
করা যাবে, যা শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ কমাতেও ভূমিকা রাখবে।”
এর আগে করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের
এপ্রিলে প্রথমবার এই ধরনের তহবিল গঠন করা হয়েছিল। ৫ বছর মেয়াদী সেই তহবিলের মেয়াদ ২০২৫
সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার পর তা আর নবায়ন করা হয়নি। ফলে গত এক বছর ব্যবসায়ীরা তীব্র
মূলধন সংকটে ছিলেন। এফবিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয়
ব্যাংক দ্রুত এই তহবিল পুনরায় সচল করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

