Logo

অর্থনীতি

লটারির মতো হলেও নিরাপদ বিনিয়োগ প্রাইজবন্ড

Icon

বিজনেস ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ২১:০৩

লটারির মতো হলেও নিরাপদ বিনিয়োগ প্রাইজবন্ড

প্রাইজবন্ড

আর্থ-সামাজিক জীবনধারায় প্রাইজবন্ড একটি অতি পরিচিত নাম। সাধারণ মানুষের কাছে এটি একদিকে যেমন নিরাপদ সঞ্চয়ের মাধ্যম, অন্যদিকে ভাগ্য পরীক্ষার এক রোমাঞ্চকর সুযোগ। লটারির সাথে এর কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও মৌলিক দিক থেকে প্রাইজবন্ড সম্পূর্ণ আলাদা এবং অনেক বেশি নিরাপদ।

প্রাইজবন্ড কী: প্রাইজবন্ড হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষ বিনিয়োগ প্রকল্প। এটি মূলত সরকারের কাছে জনগণের এক ধরনের ঋণ। এর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করে। বর্তমানে বাজারে শুধু ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড প্রচলিত রয়েছে। এটি যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি একক বা যৌথ নামে এবং যেকোনো প্রতিষ্ঠান কিনতে পারে।

লটারি বনাম প্রাইজবন্ড: সাধারণ লটারির টিকিট একবার ড্র হয়ে গেলে তার কোনো মূল্য থাকে না। কিন্তু প্রাইজবন্ডের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। একবার প্রাইজবন্ড কিনলে তা দিয়ে আজীবন ড্র-তে অংশ নেওয়া যায়। এর কোনো মেয়াদ শেষ হয় না। আপনি যদি একবার পুরস্কার নাও জেতেন, আপনার মূল টাকা হারাবে না। আপনি যেকোনো সময় এটি ব্যাংকে জমা দিয়ে সমপরিমাণ নগদ টাকা ফেরত নিতে পারবেন।

ড্র ও পুরস্কারের বিস্তারিত: প্রতি বছর চারটি নির্ধারিত তারিখে প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত হয়: ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই এবং ৩১ অক্টোবর। বর্তমানে বাজারে ৮২টি সিরিজ চালু আছে। ড্র-তে প্রতিটি সিরিজের জন্য একই নম্বর প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ একটি নম্বর বিজয়ী হলে ৮২টি সিরিজের ওই একই নম্বরধারী সবাই পুরস্কার পাবেন।

পুরস্কারের কাঠামো (প্রতি সিরিজের জন্য): প্রথম পুরস্কার: ৬,০০,০০০ টাকা (১ জন), দ্বিতীয় পুরস্কার: ৩,২৫,০০০ টাকা (১ জন), তৃতীয় পুরস্কার: ১,০০,০০০ টাকা (২ জন), চতুর্থ পুরস্কার: ৫০,০০০ টাকা (২ জন), পঞ্চম পুরস্কার: ১০,০০০ টাকা (৪০ জন), সব মিলিয়ে প্রতি ড্র-তে মোট ৩,৭৭২টি পুরস্কার দেওয়া হয়।

কেন কিনবেন প্রাইজবন্ড?

বিনিয়োগের নিরাপত্তা: এটি সরকারি বন্ড হওয়ায় টাকা হারানোর কোনো ঝুঁকি নেই।

নগদায়নযোগ্যতা: যেকোনো কার্যদিবসে ব্যাংক বা ডাকঘর থেকে তাৎক্ষণিক টাকা ফেরত পাওয়া যায়।

উপহার হিসেবে মার্জিত: বিয়ে, জন্মদিন বা যেকোনো উৎসবে নগদ টাকার পরিবর্তে প্রাইজবন্ড একটি রুচিশীল ও স্থায়ী উপহার।

সুদবিহীন সুযোগ: যারা ধর্মীয় কারণে সুদ বা লভ্যাংশ এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ মাধ্যম।

কোথা থেকে কিনবেন ও ভাঙাবেন: বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা (ময়মনসিংহ বাদে), দেশের যেকোনো তফসিলি ব্যাংক (শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক ছাড়া), সঞ্চয় ব্যুরো এবং ডাকঘর থেকে নগদ টাকায় প্রাইজবন্ড কেনা ও ভাঙানো যায়। এর জন্য কোনো আলাদা আবেদনপত্রের প্রয়োজন হয় না।

পুরস্কার দাবির নিয়ম ও ট্যাক্স: পুরস্কার জেতার পর ২ বছরের মধ্যে তা দাবি করতে হয়। এজন্য নির্ধারিত পিবি-২৩ ফরমে আবেদন করে মূল বন্ডসহ সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিতে হবে। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, পুরস্কারের অর্থের ওপর ২০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হয়। আবেদন করার সাধারণত দুই মাসের মধ্যে পুরস্কারের টাকা বিজয়ীর ব্যাংক হিসাবে সরাসরি জমা হয়।

কিছু সীমাবদ্ধতা: সুবিধা থাকলেও এর কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। যেমন—প্রাইজবন্ডের ড্র-তে জেতার সম্ভাবনা গাণিতিকভাবে খুবই কম। দীর্ঘ মেয়াদে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমলেও বন্ডের ফেস ভ্যালু (১০০ টাকা) একই থাকে। এছাড়া পুরস্কারের অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া কিছুটা দাপ্তরিক ও সময়সাপেক্ষ।

ফলাফল জানার উপায়: ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ফলাফল জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। এছাড়া অনলাইনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট অথবা অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ পোর্টাল prizebond.ird.gov.bd থেকে সহজেই নম্বর মিলিয়ে নেওয়া যায়। নিরাপদ সঞ্চয়ের পাশাপাশি ভাগ্যের দুয়ার খোলার এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক সাধারণ মানুষই এখন প্রাইজবন্ডে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন।

 

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন