সবজির বাজারে বৃষ্টির বাগড়া, বেগুন-কাঁকরোলের দামে সেঞ্চুরি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ২১:১১
টানা বৃষ্টি আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে রীতিমতো আগুন লেগেছে। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে বেগুন ও কাঁকরোলের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে ‘সেঞ্চুরি’ করায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
শনিবার সকালে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর রামপুরা,
মালিবাগ, খিলগাঁও ও মুগদা এলাকার বিভিন্ন সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি
হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষকে নোংরা পানি মাড়িয়ে বাজারে
পৌঁছাতে দেখা গেছে। তবে কষ্ট করে বাজারে এলেও দামের উত্তাপে স্বস্তি মেলেনি ক্রেতাদের।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সবজি কাঁকরোল ও বেগুনের দাম এখন সবচেয়ে বেশি। মানভেদে
প্রতি কেজি কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। গোল বেগুনের কেজি ১৩০ থেকে ১৫০
টাকা এবং চিকন বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য সবজির দামও চড়া।
টমেটো ও পটল ৬০-৭০ টাকা, করলা ও বরবটি ৬০-৮০ টাকা, ঝিঙে ও চিচিঙ্গা ৬০-৭০ টাকা, ঢেঁড়স কেজি ৫০-৬০ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস ৬০-৮০ টাকা আর
কাঁচা মরিচ কেজি ১২০ টাকা।
বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে অনেক
সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আড়তে মাল কম আসছে। রামপুরা বাজারের বিক্রেতা আব্দুল
মালেক জানান, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম থাকায় দাম কমার সম্ভাবনা
আপাতত নেই।
গরিবের প্রোটিন হিসেবে পরিচিত ব্রয়লার
মুরগির দামও এখন ঊর্ধ্বমুখী। কেজিপ্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার। সোনালি
মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা এবং গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও একই অবস্থা। পাঙাশ মাছ ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা এবং রুই
মাছ ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের বাজারে মাঝারি মানের মাছের কেজি
১,৫০০ টাকার ওপরে।
নিত্যপণ্যের এই উচ্চমূল্যে ক্ষোভ প্রকাশ
করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। মুগদা এলাকার বাসিন্দা খাদিজা বলেন, “কয়দিন আগে ১৮০ টাকায় মুরগি কিনলাম, আজ
২০০ টাকা। সবকিছুর দাম বাড়লে গরিব মানুষ বাঁচবে কেমনে?” দক্ষিণ মুগদা ও খিলগাঁওয়ের বাসিন্দারা
জানান, আয়ের সাথে ব্যয়ের মিল না থাকায় তারা এখন বাধ্য হয়ে বাজারের তালিকা ছোট করছেন।
বৃষ্টির অজুহাতে একদল অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। জ্বালানি
তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়াকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

