Logo

অর্থনীতি

মসলার বাজারে ঈদের ঝাঁজ

সরবরাহ বাড়লেও খুচরায় চড়া দাম

Icon

বিজনেস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ২০:৩৫

সরবরাহ বাড়লেও খুচরায় চড়া দাম

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের মসলার বাজারগুলোতে চিরচেনা অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কোরবানি ঈদের বাকি আর অল্প কিছুদিন। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে রান্নার প্রধান অনুষঙ্গ গরম মসলার চাহিদা এখন তুঙ্গে। তবে আমদানির পর্যাপ্ততা ও পাইকারি বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকার পরও ঢাকার খুচরা বাজারে হরেকরকম মসলার দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বাড়তি চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাত দিলেও বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নজরদারির অভাবে খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।

রাজধানীর রামপুরাসহ বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, জিরা ও দারুচিনিসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দাম কেজিতে ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত এপ্রিল মাসে যে জিরার কেজি ছিল ৫৮০ টাকা, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। আর জিরার গুঁড়ার দাম ৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ টাকায়। একইভাবে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

খুচরা বাজারে মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে আসা তাসলিমা আক্তার নামের এক গৃহিণী বলেন, বাংলাদেশে যেকোনো উৎসবের আগেই প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেওয়া একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। আগে যে পরিমাণ মসলা এক হাজার টাকায় কেনা যেত, এখন একই জিনিস কিনতে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা লাগছে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজার থেকেই তাদের বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর উল্টো চিত্র দেখা গেছে দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এবং সীমান্তঘেঁষা হিলি স্থলবন্দরে। খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে এখন মসলার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সমুদ্রপথে ও বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে প্রচুর পরিমাণ মসলা আসায় পাইকারি পর্যায়ে দাম অনেকটাই স্থিতিশীল। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে মানভেদে এলাচ ৩ হাজার ৭২০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকা, চিকন জিরা ৫৩৫ টাকা এবং লবঙ্গ ১ হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে মালের কোনো ঘাটতি নেই, বরং এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় বেচাকেনা কিছুটা কম।

বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি অমর কান্তি দাশ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে এবার বাজারে আস্ত গোটা মসলার চাহিদা গত বছরের চেয়ে কম। এছাড়া স্থলবন্দর দিয়ে চোরাই পথে কিছু মসলা আসায় বৈধ আমদানিকারকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে ভারত থেকে সরাসরি মসলা আমদানি হওয়ায় দিনাজপুরের হিলি বন্দরে গত বছরের তুলনায় এবার মসলার দাম বেশ কমেছে। হিলির বাজারে গত বছর যে সাদা এলাচ ৫ হাজার ৫০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছিল, তা এবার ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে। জিরার দামও কেজিতে ৭০ টাকার মতো কমে ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা কম দামে মসলা কিনতে হিলি বাজারে ভিড় করছেন। স্থানীয় আমদানিকারকেরা জানান, নিয়মিত এলসি ও পর্যাপ্ত আমদানির কারণেই সীমান্ত অঞ্চলে এই স্বস্তি ফিরেছে।

বাজারের এই দরদামের মাঝেই ক্রেতাদের তাড়া করছে গুঁড়ো মসলায় ভেজালের আতঙ্ক। রেডিমেড প্যাকেটের চেয়ে আস্ত মসলা কিনে ভাঙানোর প্রবণতা এখনও অনেক পরিবারের মধ্যে রয়েছে। ফলে শহরের অলিগলির কলঘর বা মসলা ভাঙানোর মিলগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে সম্প্রতি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে জিরার সঙ্গে কম দামি ক্যারাওয়ে বীজ এবং মরিচ-হলুদের গুঁড়োয় কাঠের ভুষি ও ক্ষতিকর রঙ মেশানোর প্রমাণ পাওয়ায় ক্রেতারা খোলা গুঁড়ো মসলা কিনতে রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন।

সার্বিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, এবার কোরবানির চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় পাইকারি বাজারে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি। কিন্তু খুচরা বাজারে তদারকির দুর্বলতার কারণে ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেলের দাম যেভাবে বাড়ানো হয়েছে, তার পেছনে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও সরকারের শিথিল অবস্থান দায়ী। ঈদের আগে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে দ্রুত বাজার মনিটরিং ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন