দ্বিগুন হচ্ছে স্টার্টআপ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ
বিজনেস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ২১:০৬
# নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য হচ্ছে ৫০০ কোটির তহবিল
# লক্ষ্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন
# তরুণ উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে পাবে ১০ লাখ টাকা ঋণ
দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে স্টার্টআপ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তায় গঠন করা হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল। এই উদ্যোগের আওতায় তরুণ উদ্যোক্তারা কোনো প্রকার জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশীয় উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে এই বড় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
নারী উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতির বিকাশে অতীতে যে বরাদ্দ ছিল, তা এবার এক লাফে দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তরুণদের ব্যবসায়িক আইডিয়াগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। নতুন যারা ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের পুঁজির সংকট দূর করতে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এই তহবিলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো জামানতহীন ঋণ সুবিধা। তরুণ ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা কোনো গ্যারান্টি বা জামানত ছাড়াই সহজ শর্তে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্টার্টআপ তহবিল, নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য মোট ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংসদকে অর্থমন্ত্রী বলেন, যুব সমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে এবং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে যুব ঋণ বিতরণ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় 'স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড' এবং অর্থ বিভাগের বিভিন্ন তহবিলের মাধ্যমে দেশব্যাপী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বাজেট বরাদ্দের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে 'স্টার্টআপ তহবিল খাতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্টার্টআপ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির জন্য এই বরাদ্দ দ্বিগুণ বাড়িয়ে মোট ৪০০ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার সারা দেশে ক্রমান্বয়ে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। নিম্ন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাসহ চলমান সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ আগামী অর্থবছরে আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশে বেকারত্ব দূরীকরণ ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বর্তমানে বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প না থাকলেও সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন। পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও ৫ হাজার টাকা ভাতা।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তরুণদের জন্য বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প চলমান নেই। তবে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করে আসছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে 'নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিম'-এর তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এছাড়া জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্টার্টআপদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ ও ইক্যুইটি সহায়তা স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে 'স্টার্ট আপ ফান্ড' নামে ৫০০ কোটি টাকার আরও একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।
শুধু ঋণ নয়, স্টার্টআপ খাতের অনুকূলে ইক্যুইটি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিতে ‘বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ নামক একটি ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিও গঠন করা হয়েছে। স্টার্টআপ উদ্যোগগুলো এই কোম্পানি থেকে ইক্যুইটি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবে।
বিনা খরচে ১০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ও ৫ হাজার টাকা ভাতা উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (এসআইসিআইপি)’-এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পিআইইউ-এসআইসিআইপি কর্তৃক পরিচালিত অনট্রাপ্রনারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইডিপি)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের মাসব্যাপী ১০০ ঘণ্টার উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের কোনো ফি দিতে হয় না। বরং সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা সাপেক্ষে উদ্যোক্তাদের ৫ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের খবর/কেএইচ

