ছবি: সংগৃহীত
দেশের শেয়ারবাজারে দুর্বল কোম্পানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ৩৫০টি কোম্পানির মধ্যে ১২৭টিই দুর্বল শ্রেণিভুক্ত (জেড ক্যাটাগরি) হয়েছে। চলতি বছরে এই কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার সম্ভবনা খুবই কম। এর মধ্যে ৬২টির কারখানা বন্ধ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ‘রেড এলার্ট’ জারি করা হয়েছে। যেই কোম্পানিগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এর বাইরে ব্যাংক খাত এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের (এনবিএফআই) কোম্পানিগুলোও তারল্য সংকটে ভুগছে। এতে ব্যাংকিং খাতে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণায় ‘ক্যাপ’ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শুধু নগদ লভ্যাংশই নয়, স্টক (বোনাস শেয়ার) লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাড়তি করের চাপ বসানো হয়েছে। সব মিলে চলতি বছরে শেয়ারবাজারের কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে কঠিন সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়েছে।
২০২৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সচল থাকা উৎপাদন খাতের ২৩০টি কোম্পানির মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই কোনো ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। আর যেগুলো লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি কোম্পানিই লভ্যাংশের হার কমিয়েছে। এছাড়া উৎপাদন খাতের বাইরে থাকা আর্থিক সংশ্লিষ্ট ১২০টি কোম্পানির মধ্যে চার ভাগের এক ভাগই লভ্যাংশ দেয়নি। এক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের অর্ধেকের বেশি কোম্পানি প্রথমবারের মতো লভ্যাংশ না দেওয়ার রেকর্ড গড়েছে। তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টি ব্যাংকই আলোচিত বছরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বঞ্চিত করেছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি স্টক লভ্যাংশের ক্ষেত্রে কর আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অন্যদিকে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে নতুন করে শর্ত আরোপ করেছে। চলতি বছর থেকে যেসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকার কম, সেগুলো আর নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। এই হিসেবে তালিকাভুক্ত ৩৬ ব্যাংকের মধ্যে কেবল একটি ব্যাংকের (ব্র্যাক ব্যাংক) নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার সক্ষমতা রয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলো যদি স্টক লভ্যাংশ (বোনাস শেয়ার) বিতরণের সিদ্ধান্তও নেয়, সেক্ষেত্রে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হবে তাদের। দিতে হবে ঘোষিত মোট স্টক লভ্যাংশের সমপরিমাণ অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর। বর্তমানে স্টক লভ্যাংশে কোম্পানিগুলোর কোন ধরনের কর দিতে হয় না।
শেয়ারবাজার অংশীজনরা দীর্ঘ বছর ধরে কোম্পানির ঘোষিত নগদ লভ্যাংশের ওপর আরোপিত করকে ‘দ্বৈত কর’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, প্রথমবার কোম্পানি অর্জিত মুনাফার ওপর করপোরেট কর দেয়। সেখানে শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ বিতরণের সময় কর দেওয়া মূলত ‘দ্বৈত কর’, যা কোম্পানিগুলোকে নগদ লভ্যাংশ বিতরণে নিরুৎসাহিত করে। অথচ এই পরিস্থিতিতে আসছে অর্থবছরে নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি স্টক লভ্যাংশেও কর আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। এমন সিদ্ধান্ত শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে এবং কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার আগ্রহ কমিয়ে দিবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও বাজার সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার বলেন, কোম্পানি মুনাফার অর্থ দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে, নাকি আর্থিক দায় পরিশোধ করবে কিংবা নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করবে- এটি তার ব্যবসায়িক স্বার্থের ওপর নির্ভর করে। এক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক প্রয়োজন হলে নগদ না দিয়ে স্টক লভ্যাংশ দিতেই পারে, এটি তার স্বাধীনতা। আমরা আসলে এতই দুর্ভাগা জাতি যে, আমাদের ওপর এত এত রেগুলেশন চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা বিশ্বের অন্য কোথাও নেই। ব্যাংকগুলোর কথাই যদি বলা হয়, তাহলে অনেক ব্যাংক নগদের পাশাপাশি স্টক লভ্যাংশ দেয়। আবার অনেকগুলো শুধু স্টক লভ্যাংশ দেয়। ব্যাংকের পরিচালন স্বার্থে নগদ অর্থের প্রয়োজন হলে সে স্টক লভ্যাংশ দিতেই পারে। এক্ষেত্রে রেগুলেশন চাপিয়ে না দিয়ে বরং তারল্য সহায়তা দিতে রেগুলেশন সহজীকরণ করা উচিত বলে মনে করছি।
প্রায় একই ধরনের মতমত জানিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, এত এত রেগুলেশন করা হলে বাজারে ভালো কোম্পানি আনার পথ কঠিন হয়ে পড়বে। কোম্পানি তার ব্যবসার স্বার্থে নগদ অর্থ ধরে রাখতেই পারে। এর ফলে কোম্পানি থেকে মুনাফার অর্থ অন্য কোথাও সরে যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে স্টক লভ্যাংশে কর আরোপ কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
বাড়ছে লভ্যাংশে করের বোঝা: বিদ্যমান আয়কর অনুযায়ী, বর্তমানে শেয়ারবাজারে লভ্যাংশের ওপর ‘দ্বৈত কর’ কাটা হয়। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, যদি ব্যক্তিশ্রেণির বড় বিনিয়োগকারী বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারের কোন কোম্পানি থেকে ৫ লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ পান, তাহলে শুরুতেই তা থেকে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয়। পরবর্তীতে ওই বিনিয়োগকারীই যখন বছর শেষে রিটার্ন দাখিল করেন, তখন তাকে বছরের পুরো আয়ের ওপর আবারো নির্ধারিত হারে কর দিতে হয়। এভাবে বিনিয়োগকারীদের থেকে ‘দ্বৈত কর’ আদায় করে থাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আবার কোম্পানির ক্ষেত্রে বছরের অর্জিত মুনাফার ওপর করপোরেট করসহ বিভিন্ন ধরনের কর দিতে হয়। এটি তার ব্যবসায়িক মুনাফার ওপর প্রাথমিক কর। পরবর্তীতে কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা যখন ঘোষিত লভ্যাংশ নেয়, তখন তাদের পুনরায় উৎসে কর দিতে হয়। এভাবে একই মুনাফার অংশ ভোগ করতে কোম্পানিকেও দুইবার কর দিতে হয়। অনেক বছর ধরেই শেয়ারবাজার অংশীজনরা এই ‘দ্বৈত কর’ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এলেও তা আগামী অর্থবছরেও বিদ্যমান থাকছে।
এছাড়া, গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরেও কোম্পানি তার অর্জিত মুনাফার ৩০ শতাংশের কম হারে নগদ লভ্যাংশ দিলে বাড়তি করের বোঝা বইতে হবে। এক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি (ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া) যদি তার কর-পরবর্তী নিট মুনাফার অন্তত ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ হিসেবে না দেয়, তবে অর্জিত নিট মুনাফার বিপরীতে রাখা সংরক্ষিত আয়, তহবিল বা উদ্বৃত্তের ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর দিতে হবে। কোম্পানি নিট মুনাফা হিসাব হয় সব ধরনের করারোপের পর। ফলে অতিরিক্ত এই করারোপ হবে কর দেওয়া অর্থের ওপর ফের করারোপ।
এদিকে আগামী অর্থবছরে নতুন করে কোম্পানির ঘোষিত স্টক লভ্যাংশের ওপরও প্রথমবারের মতো কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি যদি নগদ লভ্যাংশের বদলে পুরোপুরি স্টক লভ্যাংশ বা বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে অথবা নগদ লভ্যাংশের তুলনায় স্টক লভ্যাংশের পরিমাণ বেশি হয়, তবে ঘোষিত পুরো স্টক লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশেও শর্তারোপ: সম্প্রতি ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকার কম, সেগুলো ২০২৬ হিসাব বছর থেকে কোনো ধরনের নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর মূলধনভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ব্যাংক বিদ্যমান সব শর্ত পূরণ করে নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার উপযুক্ত হবে, তারা ঘোষিত মোট লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ হিসেবে বিতরণ করতে পারবে। বাকি অংশ দিতে হবে স্টক লভ্যাংশ হিসেবে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছর এবং পরবর্তী বছরগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ জারি করা এ-সংক্রান্ত অন্যান্য নির্দেশনাও মানতে হবে। ওই নির্দেশনার আলোকে কোন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দুই অঙ্কের ঘরে থাকলে ওই ব্যাংক কোন ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারবে না। আবার মূলধন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতি থাকলেও লভ্যাংশ দেওয়া যাবে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ২০২৫ হিসাব বছরের আর্থিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে মাত্র ১৬টি ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক শুধুমাত্র নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা দিলেও কয়েকটি নগদের পাশাপাশি স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আবার কয়েকটি শুধুমাত্র স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ঠিক রাখার চেষ্টা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই নির্দেশনার আলোকে ২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের শর্ত পূরণ করে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল ব্র্যাক ব্যাংকের নগদ ভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা থাকছে। অন্য ব্যাংকগুলো স্টক লভ্যাংশ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও গুনতে হবে বাড়তি কর।
অংশীজনরা কেমন লভ্যাংশ নীতি চান: ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারে যে কোম্পানিগুলো আছে তার মধ্যে অনেকগুলোই দুর্বল অবস্থানে চলে গেছে। এগুলোর লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতাও ইেন। ব্যাংকগুলোও শর্তের কারণে চলতি বছর থেকে কোন ধরনের নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না। তারপর ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) অবস্থাও খুবই শোচনীয়। এদেরও বছরের বাকি সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই। ফলে চলতি বছর যেসব বিনিয়োগকারী লভ্যাংশের জন্য অপেক্ষায় থাকবেন, তাদের জন্য একটি কঠিন বছর হতে পারে।
বিদ্যমান পরিস্থিতি ঠিক করতে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ বাজার অংশীজন। তার মতে, প্রথমত, শেয়ারবাজারে যে কোম্পানিগুলো আছে, সেগুলোকে ভালো করে তুলতে হবে। যেটি আপাত দৃষ্টিতে দ্রুত সময়ে সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, নতুন কিছু ভালো কোম্পানি আনতে হবে। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর জন্য করছাড় সহ ভালো কিছু সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই রাখতে হবে।
বিএমবিএ সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার বলেন, তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা আছে, তারাও এখন ট্যাক্স কমানোর বিষয়টি মাথায় রেখে লভ্যাংশের হিসাব-নিকাশ করে। উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশের মতো ‘এ’, ‘বি’, ‘এন’ কিংবা ‘জেড’ ক্যাটাগরিও নেই। আর কোথাও এমন কোন বিধানও নেই যে, নির্ধারিত হারে লভ্যাংশ না দিলে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যেতে হবে। তাছাড়া মুনাফার ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ না দিলে ট্যাক্স হার বেড়ে যাওয়ার মতো বিষয়ও কোন দেশে নেই। এই বিষয়গুলো সংশোধন আনা উচিত। তা নাহলে দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকরা যা বলছেন: নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম মনে করেন, লভ্যাংশের ওপর দ্বৈত কর কোম্পানিগুলোর জন্য বোঝা। তার ওপর স্টক লভ্যাংশের ওপর নতুন করে এই কর আরোপ করা হলে শেয়ারবাজারকে এটি আরো ধংসের দিকে নিয়ে যাবে। চলমান তারল্য সংকটের কারণে অনেক ভালো ব্যাংক ও কোম্পানি বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে চলে গেছে। এ পরিস্থিতিতে কোম্পানিগুলো নগদ অর্থের পরিবর্তে স্টক লভ্যাংশের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে সেই বোনাস শেয়ারের ওপরও ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে।
তার মতে, বোনাস শেয়ারে কোনো নগদ অর্থের লেনদেন হয় না; এটি মূলত একটি ‘জার্নাল এন্ট্রি’। এতে কোম্পানির সম্পদ বা নগদ অর্থ বাড়ে না বা কমে না, বরং এটি একটি সান্ত্বনা পুরস্কারের মতো। এর ওপর কর আরোপ করাকে ‘মোহাম্মদ বিন তুঘলকীয়’ সিদ্ধান্তের সঙ্গে তুলনা করে এটি বাজারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই বিশ্লেষক।
তবে স্টক লভ্যাংশকে নিরুৎসাহীত করতে কর বসানোর প্রস্তাবটি ভালো উদ্যোগ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন। তিনি বলেন, স্টক লভ্যাংশ আসলে কোন লভ্যাংশই নয়। ভালো কোম্পানিগুলো স্টক লভ্যাংশ দেয়ও না। দুর্বল কোম্পানিগুলোই স্টক লভ্যাংশ দিয়ে শেয়ার সংখ্যা বাড়ায়। কোম্পানি স্টক লভ্যাংশ দিয়ে যদি ব্যবসা বাড়াতে না পারে তখন শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) কমে যাবে আর শেয়ারমূল্যও কমবে। তখন মূলত বিনিায়োগকারী কিছুই পায় না।
তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে যেই কোম্পানিগুলো আছে, তার অধিকাংশই এখন দুর্বল। ব্যাংক, এনবিএফআই ও বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। এর মধ্যে যেই কোম্পানিগুলো ভালো রয়েছে, সেগুলোও উচ্চমূল্যে উঠে গেছে। ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীর জন্য বিনিয়োগযোগ্য ভালো শেয়ারের খুবই অভাব। অথচ বাজারের স্বার্থে নতুন বিনিয়োগকারীও আনতে হবে, আবার নতুন ভালো কোম্পানিও আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে কিছু নীতিছাড় দিয়ে হলেও গ্রামীণফোনের মতো কিছু ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার বক্তব্য: শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, আমরা শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে উদ্যোগ নিয়েছি। ভালো কোম্পানি আনতে যেই সুযোগ-সুবিধা (ইনসেনটিভ) প্রয়োজন, সরকারের সঙ্গে সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। আর শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ক্ষেত্রে অন্যান্য রেগুলেটরি বডির যেকোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বিএসইসির সঙ্গে যেন সমন্বয় করা হয়, এই বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

