হিফজ প্রতিযোগিতা : ইতিবাচক, সতর্কতা ও পরামর্শ
হাফেজ মাওলানা ক্বারী মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৯
হিফজ শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করানো উচিত কি না, এটি একটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর যেমন অনেক ইতিবাচক দিক আছে, তেমনি কিছু সতর্কতাও অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ইতিবাচক দিকসমূহ
১. মান বৃদ্ধি : প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়া বারবার রিভিশন দেয়, যার ফলে হিফজ অনেক বেশি মজবুত হয়।
২. ভয় দূর হওয়া : জনসমক্ষে বা স্টেজে তিলাওয়াত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনের জড়তা এবং ভয় দূর হয়। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
৩. আগ্রহ তৈরি : সহপাঠী বা অন্যান্য হাফেজদের তিলাওয়াত শুনে নিজের পড়ার মান আরও উন্নত করার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।
৪. শুদ্ধ উচ্চারণ ও তাজবিদ : প্রতিযোগিতার বিচারকরা সাধারণত সূ² ভুলগুলো ধরিয়ে দেন, যা শিক্ষার্থীকে তাজবিদ ও লাহান (সুর) ঠিক করতে সাহায্য করে।
যে বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকা জরুরি
৫. নিয়ত বা উদ্দেশ্য : কোরআন হিফজ করার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি। যদি লক্ষ্য কেবল পুরস্কার বা প্রশংসা পাওয়া হয়, তবে তা আধ্যাত্মিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।
৬. অতিরিক্ত চাপ : অনেক সময় প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির চাপে শিক্ষার্থী মানসিক অবসাদে ভুগতে পারে। মনে রাখতে হবে, হিফজ যেন তার কাছে বোঝা না হয়ে যায়।
৭. অহংকার : প্রতিযোগিতায় জয়ী হলে যেন মনে অহংকার না আসে এবং পরাজিত হলে যেন হীনম্মন্যতা তৈরি না হয়, সেদিকে শিক্ষক ও অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।
কিছু পরামর্শ
শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় পাঠানো নিশ্চয়ই ইতিবাচক, যদি নিচের শর্তগুলো মেনে চলা হয়।
১. নিয়ত সংশোধন : শিক্ষার্থীকে বোঝাতে হবে যে, সে কোরআন শোনাতে যাচ্ছে মানুষকে মুগ্ধ করার জন্য নয়, বরং নিজের পড়া যাচাই করার জন্য।
২. সুস্থ প্রতিযোগিতা : হার-জিত বড় কথা নয়, বরং অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেখাটাই আসল-এই মানসিকতা তৈরি করে দিতে হবে।
৩. সবার জন্য নয় : যে শিক্ষার্থী মানসিকভাবে খুব বেশি সংবেদনশীল বা যার পড়া এখনো একদমই কাঁচা, তাকে জোর করে প্রতিযোগিতায় না পাঠানোই ভালো।
লেখক : চেয়ারম্যান, মাশকুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, অনলাইন হিফজ মাদরাসা

