পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান : ৪র্থ অধ্যায়ের প্রশ্ন-উত্তর
বেলাল হোসাইন
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৬
প্রিয় শিক্ষার্থীরা,
শুভেচ্ছা তোমাদের। জন্মের পর আমরা কতই-না অসহায় ছিলাম! আমরা চলাফেরা করতে পারতাম না, কথা বলতে পারতাম না, ক্ষুধা লাগলে খাবার চাইতে পারতাম না। সব কিছুর জন্য মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। এরপর আমাদের শরীর এবং মনে ধীরে ধীরে নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আমরা শারীরিকভাবে যেমন বড়ো হচ্ছি তেমনি মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছি, নিজেদের প্রয়োজনের কথাও নিজেরা বলতে পারছি। আমাদের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। এটিই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
আমাদের মা-বাবা, বড়ো ভাই-বোন, অথবা আমাদের থেকে বয়সে যারা বড়ো তারাও ঠিক একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। এভাবে জীবনের যে পর্যায়ে একজন মানুষ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বড়ো হয়ে ওঠে অর্থাৎ বাল্যকাল থেকে কৈশোরে পা রাখে, মানবজীবনের সেই পর্যায়কে বয়ঃসন্ধিকাল বলে।
১. সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন (√) দিই:
ক) বয়ঃসন্ধিকাল সাধারণত কোন সময় হতে শুরু হয়?
☐ বাল্যকাল
☐ শৈশবকাল
🗹 কৈশোর
☐ যৌবনকাল
খ) বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের মধ্যে নিচের কোন পরিবর্তনটি লক্ষ করা যায়?
☐ পেশি সুগঠিত হয়
🗹 শরীর কিছুটা ভারী হয়
☐ গলার স্বর মোটা হয়
☐ কাঁধ চওড়া হয়
গ) বয়ঃসন্ধিকালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি, কারণ এতে-
🗹 শরীর রোগমুক্ত থাকে
☐ শারীরিক সৌন্দর্য বজায় থাকে
☐ রাতে ভালো ঘুম হয়
☐ মন ভালো থাকে
২. শুদ্ধ-অশুদ্ধ নির্বাচন করি:
১ বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক পরিবর্তন কোনো স্বাভাবিক পরিবর্তন নয়। (অশুদ্ধ)
২ সাধারণত ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকাল ৯ থেকে ১৫ বছর। (অশুদ্ধ)
৩ বাবা-মা অথবা বাসার বড়োদের সাথে বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নাই। (অশুদ্ধ)
৪ বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তনগুলো সকলের একই সময়ে বা একইভাবে হয় না। (শুদ্ধ)
৩. সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন:
১. বয়ঃসন্ধিকালে শরীর ও মন সুস্থ রাখার উপায়গুলো কী কী?
উত্তর: বয়ঃসন্ধিকালে শরীর ও মন সুস্থ রাখার উপায়গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া
নিয়মিত ব্যায়াম ও খেলাধুলা করা
প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়া
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা
ভয়, দুঃশ্চিন্তা বা সমস্যার সময় পরিবার ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলা
মোবাইল কম ব্যবহার করে পড়াশোনা ও ভালো কাজে মনোযোগ দেওয়া
ইতিবাচক চিন্তা করা এবং খারাপ সঙ্গ এড়িয়ে চলা
২. ছেলেদের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকালে যেসব পরিবর্তন দেখা দেয়, সেগুলো লেখ।
উত্তর: বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের মধ্যে বেশকিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। নিচে এগুলো লেখা হলো:
উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যায়, গোঁফ-দাড়ি গজাতে শুরু কওে, পেশি শক্তিশালী হয়, কাঁধ চওড়া হয়, শরীরে ঘাম ও তেলের পরিমাণ বাড়ে।
৪. বর্ণনামূলক-উত্তর প্রশ্ন:
১. ‘বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন একজন শিশুর বড়ো হয়ে উঠার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বয়ঃসন্ধিকাল মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, যখন শরীর, মন এবং আচরণে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। এ সময় একজন শিশুর দেহ ধীরে ধীরে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রস্তুতি নেয়। উচ্চতা দ্রুত বাড়া, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, পেশি শক্তিশালী হওয়া, শরীরের গঠন পরিবর্তন-এসবই স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন। সেই সঙ্গে মানসিক পরিবর্তন যেমন—আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, চিন্তাভাবনা পরিপক্ব হওয়া এবং আবেগের ওঠানামাও ঘটে।
এই পরিবর্তনগুলো হঠাৎ হলেও এগুলো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং প্রত্যেক মানুষের জীবনেই ঘটে। এগুলো কখনো অসুস্থতার লক্ষণ নয়, বরং দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও হরমোনের কার্যক্রমের ফল। তাই বয়ঃসন্ধিকাল একজন শিশুর বড়ো হয়ে ওঠার একটি স্বাভাবিক, স্বাস্থ্যকর এবং প্রয়োজনীয় ধাপ।
২. বয়ঃসন্ধিকালে সুষম ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: বয়ঃসন্ধিকালে শরীরের বৃদ্ধি অত্যন্ত দ্রুত ঘটে। উচ্চতা বাড়া, হাড়ুপেশি মজবুত হওয়া, রক্ত বৃদ্ধি, হরমোনের পরিবর্তন—এসবের জন্য দেহে অতিরিক্ত পুষ্টির প্রয়োজন হয়। সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি থাকে, যা শরীরের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করে।
এই সময়ে যদি সঠিক পুষ্টি না পাওয়া যায়, তবে দুর্বলতা, রক্তস্বল্পতা, উচ্চতা কম হয়ে যাওয়া, মনোযোগের ঘাটতি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুষম খাদ্য বয়ঃসন্ধিকালীন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ—এটি মনোযোগ বাড়ায়, ক্লান্তি কমায় এবং মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তাই বলা যায়, বয়ঃসন্ধিকালে সুষম ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ সুস্থ দেহ, সুস্থ মন এবং সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

