কারিকুলামেও পরিবর্তন; চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণীতে নতুন বিষয়ের পাঠ্যবই
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা তাদের অন্যান্য বইয়ের সাথে নতুন বিষয়ে লেখা আরো একটি বই পাবে। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (আনন্দের সাথে শিক্ষা) এবং ‘সোস্যাল কালচার’ (সমাজ সংস্কৃতি) বিষয়ে নতুন একটি পাঠ্যবই দেয়া হবে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকের এই দুই শ্রেণীর শিক্ষার্থীর জন্য।
একই সাথে শারীরিক শিক্ষা বিষয়েও নতুন নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। সব শ্রেণীর জন্য ক্রীড়া শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত আইসিটি বিষয়ের বইটির আগাগোড়া পরিবর্তন করা হচ্ছে। সেখানে বিশ্ব প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এআই এবং রোবোটিক অংশসহ অনেক নতুন বিষয়ই যুক্ত করা হচ্ছে।
অন্য দিকে বিদ্যমান কারিকুলামেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে চাইছে সরকার। এ বিষয়ে গত ২০ এপ্রিল থেকে পরপর তিন দিন মতিঝিলস্থ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি সভা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও অংশ নিয়েছেন। সভায় বছরের শুরুতে নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে এবং মানসম্পন্ন বই মুদ্রণে সবার ভূমিকা নিয়েও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সাথে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন কারিকুলামের পাঠ্যবই নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নতুন কারিকুলাম প্রস্তুতে কারা কিভাবে সহযোগিতা করবেন, কিভাবে কমিটি গঠন করা হবে সেসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কারিকুলাম কমিটিতে দেশের বিজ্ঞ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের সম্পৃক্ত করতে নতুন তালিকা প্রস্তুতের কাজও শুরু হয়েছে।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় শিক্ষার সাথে খেলাধুলা এবং বিনোদনকে (নাচ, গান, সঙ্গীত, বাদ্যবাজনা) যুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। সব শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই সাথে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণীতে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস এবং সোস্যাল কালচার বিষয়ে নতুন দু’টি বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই বিষয় দু’টি পরের ক্লাসে অর্থাৎ সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণীতেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যান্য বিষয়ে কারিকুলামে বেশ কিছু পরিমার্জন আনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, কারিকুলাম পরিমার্জনে কমিটি গঠনে কোনো সদস্যের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যে শিক্ষক যে সেক্টরে দক্ষ তাকে দিয়ে সেই বিষয়ের কাজ করানো হবে। দক্ষ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক রাজনৈতিকভাবে যে মতাদর্শের হোন না কেন সেটি বিবেচনায় নেয়া হবে না।
এরইমধ্যে পৌনে তিন শ শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ নিয়ে একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হলেও শিক্ষামন্ত্রী নিজে কমিটি গঠনের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে দেখভাল করছেন।
এবার কারিগরি শিক্ষার কারিকুলামে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন আনার কাজ করা হচ্ছে। আমাদের সমাজে কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে একটি খারাপ ধারণা আছে আর সেটি হলো কম মেধাবী শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষায় বেশি যায়। কিন্তু সমাজের এই ট্যাবু পরিবর্তন আনতে হবে।
তাই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কারিগরির বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠ্যবইয়েও কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও বিশ্ববাজারে কারিগরি শিক্ষার চাহিদা এবং কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে যারা সমাজ তথা বিভিন্ন দেশে বিশেষ অবদান রেখেছেন তাদের জীবনী ও কর্মকৌশলও পাঠ্যবইয়ে স্থান দেয়া হবে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নিজেই উদ্যোগী হয়ে বিষয়টিতে কাজ শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: মাহবুবুল হক পাটোয়ারি বলেন, চলতি বছরে আমরা নভেম্বর মাসের মধ্যেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিতে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নিজেই কাজের তদারকি করছেন। নিয়মিত আমাদের সাথে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন।
এরইমধ্যে একাধিক সভায় শিক্ষামন্ত্রী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সব শ্রেণীর পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এখন সেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এনসিটিবিতে তিনটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

