খুদে বিজ্ঞানীদের খোঁজে দেশজুড়ে জাতীয় উদ্ভাবন ও বিজ্ঞান মেলা
শিক্ষা ডেস্ক :
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১৯:৫৬
সংগৃহীত
দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণামনস্কতা বিকাশে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে জাতীয় উদ্ভাবন ও বিজ্ঞান মেলা। শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে বাস্তবমুখী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষায় উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন করেছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ‘পারফরমেন্স বেজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস’ (পিবিজিএসআই) স্কিমের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব দীপায়ন দাস শুভ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত যেকোনো শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী এবং দুইজন শিক্ষককে নিয়ে একটি দল গঠন করা হবে। তবে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক দল অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
তিন বিভাগে প্রতিযোগিতা
জাতীয় উদ্ভাবন ও বিজ্ঞান মেলা তিনটি প্রধান বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগগুলো হলো— স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও ইনোভেশন আইডিয়া।
শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণাধর্মী প্রকল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উপস্থাপনের সুযোগ পাবে এই প্রতিযোগিতায়।
উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১১ জুনের মধ্যে দেশের সব উপজেলা এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা মহানগরের শিক্ষা থানাগুলোতে মেলা আয়োজন করতে হবে। উপজেলা বা থানা পর্যায়ে প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে একটি করে সেরা প্রকল্প নির্বাচিত হবে।
পরবর্তী ধাপে ২৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত বিজয়ী দলগুলো সরাসরি জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। প্রতিটি বিজয়ী দলে থাকবেন পাঁচজন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক।
জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত দলগুলোর তালিকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) স্বাক্ষরসহ ২৬ জুনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
জাতীয় পর্বে অংশ নেবে ৭৫টি দল
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ৬৪টি জেলা ও চারটি মহানগরী থেকে মোট ৭৫টি দল জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে। এসব দলের মোট সদস্যসংখ্যা হবে ৫২৫ জন।
জাতীয় পর্যায়ের মূল আয়োজন আগামী জুন মাসের শেষ সপ্তাহে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার
জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্য থেকে সেরা ১০টি দলকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। বিজয়ী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবেন।
এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষার্থী ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা করে পাবে। এই অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে পাঠানো হবে। পাশাপাশি প্রত্যেককে একটি করে সনদও দেওয়া হবে।
অন্যদিকে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষক ‘সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ হিসেবে ২৫ হাজার টাকা করে পাবেন। তাদেরও প্রদান করা হবে সম্মাননাপত্র ও সনদ।
উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবকদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও জাতীয় উদ্ভাবন ও বিজ্ঞান মেলা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

