Logo

শিক্ষা

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে আল্টিমেটাম, শিক্ষার্থীদের শাহবাগ ত্যাগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ২১:০৫

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে আল্টিমেটাম, শিক্ষার্থীদের শাহবাগ ত্যাগ

# দ্বিতীয় দিনেও পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-অবরোধ

# তীব্র যানজটে জনদুর্ভোগ, নাকাল ঢাকাবাসী

# ছয় দফা নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষার্থীরা

# পরীক্ষার্থীদের লংমার্চ, পুলিশি ব্যারিকেড

# তিন দফা দাবিতে আরেকদল শাহবাগে

# চট্টগ্রামেও পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, চরম ভোগান্তি

# নারায়ণগঞ্জ ও সাভারে বিক্ষোভ মিছিল

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে তীব্র যানজটের মুখোমুখি হয় ঢাকাবাসী। সায়েন্সল্যাব ও উত্তরার বিএনএসে শিক্ষার্থীদের অবরোধে কার্যত অচল হয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়ক। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে মিরপুর রোড, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, উত্তরা ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসফেরত যাত্রী, রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। পরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সময় বেঁধে দিয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে সরে গেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই মোড় অবরোধ করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেন তারা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে সড়ক থেকে সরে যান শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী রাহাত আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাস্তা আটকে থাকায় জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা মানুষের ভোগান্তি চাই না। তাই আজকের (গতকাল) মতো কর্মসূচি স্থগিত করছি। আমাদের দাবি একটাই, শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। আজ রাত ১০টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে লং মার্চ টু সচিবালয় কর্মসূচি পালন করব।’

তার এই ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা সড়ক সরে যান। এরপর শাহবাগ মোড় দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। 

এর আগে বুধবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে সড়ক অবরোধ করেন একদল এইচএসসি পরীক্ষার্থী। একই সময় ঢাকামুখী ও গাজীপুরমুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুপুর আড়াইটার পর রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়েও সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে রাজধানীর দুটি ব্যস্ততম এলাকায় একযোগে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

পরে অবশ্য শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছয়জন প্রতিনিধি। এদিন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে তারা সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। এছাড়া উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের আরেকটি দল তিন দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে। এতে শাহবাগ মোড় দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। পরে আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিনিধিদল শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ছয় দফা দাবি তুলে ধরে। 

দাবিগুলো হলো: ১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যারা পুনরায় অংশ নিতে চায়, তাদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে; ২. যারা একই বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় দেবে, তাদের ক্ষেত্রে আগের ও পুনঃপরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরটি চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে; ৩. প্রশ্নপত্রে থাকা ভুল প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিতে হবে; ৪. চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য কিছু সময় দিয়ে এরপর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে; ৫. পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত ছিল। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বর মূল্যায়ন করতে হবে; ৬. পরীক্ষা চলাকালে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে কিছু শিক্ষকের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভীত বা মানসিক চাপে না পড়ে।

আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কর্মসূচি পালন করলেও সচিবালয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত দাবির তালিকায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এদিকে, আজ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিন দফা দাবি শিক্ষার্থীদের আরেকটি দল শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ শুরু করেন।

দিনভর যানজটে নাকাল ঢাকাবাসী: আজ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে সড়ক অবরোধ করেন একদল এইচএসসি পরীক্ষার্থী। একই সময় ঢাকামুখী ও গাজীপুরমুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুপুর আড়াইটার পর রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়েও সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে রাজধানীর দুটি ব্যস্ততম এলাকায় একযোগে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেওয়ার পর মিরপুর রোড, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি ও শাহবাগমুখী সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। আটকে পড়া যানবাহনের চালকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- দুর্যোগ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত, ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ। যদিও দিন শেষে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে আসেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলন চলাকালে সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। একই সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ওই সড়কে চলাচলকারী মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। এর আগে আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি সাহিত্য দ্বিতীয়পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষাও নেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তির মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্রের ত্রুটিরও সুষ্ঠু সমাধান হয়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

অন্যদিকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

সড়ক অবরোধের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় যানজটের প্রভাব রয়ে যায়। এতে রাজধানীবাসীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে আটকে থাকতে হয়। অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন। 

এর আগে একই দিন দুপুরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করে সড়ক অবরোধ করেন। পরে সেখান থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করেন তারা। মিছিলটি শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছে সন্ধ্যা প্রায় ৬টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

চট্টগ্রামেও পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, চরম ভোগান্তি: শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রামে আবারও বিক্ষোভ শুরু করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার তারা ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন করেছেন। তাদের দাবি মানা হয়নি; বরং ঢাকায় তাদের কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে। তাই তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে এখন আন্দোলন করছেন। দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন তারা।

এদিন বেলা পৌনে তিনটার দিকে দেখা যায়, ২ নম্বর গেট মোড় এলাকায় সড়কের মাঝখানে অবস্থান করছেন পরীক্ষার্থীরা। সড়ক অবরোধ না করলেও তাঁদের কর্মসূচির কারণে যান চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। এ সময় পরীক্ষার্থীরা ‘তুমি কে আমি কে, ফার্মের মুরগি’; ‘কে বলেছে, কে বলেছে, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী’; ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’–সহ নানা স্লোগান দেন দিতে থাকেন।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়ালিদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো মেনে না নিয়ে আমাদের সঙ্গে উল্টো আচরণ করা হয়েছে। আমাদের এখন একটাই দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।’

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে দুই দফায় প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের একটি গেট খুলে সড়কে ফেলে দেন। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তারা কর্মসূচি শেষ করেন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার পরীক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রশ্নপত্রের মান নিশ্চিত করা, ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্ন প্রণয়নকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, উত্তরপত্র ন্যায্যভাবে মূল্যায়ন, দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন পরীক্ষার রুটিন প্রণয়ন।

নারায়ণগঞ্জ ও সাভারে বিক্ষোভ মিছিল: আজ দুপুর দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যার দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শেষে তারা চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে ইউনিফর্ম (কলেজের নির্ধারিত পোশাক) পরেই তারা মিছিলে অংশ নেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরীক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন তাদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্য করে গর্হিত কাজ করেছেন। তাই তারা তাকে গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখতে চান না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) শামীম হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে সড়কে নেমে এলে পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে। পরে তারা সড়ক ছেড়ে মিছিল করে চলে যান।

একই দাবিতে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর সোয়া ১টার দিকে মহাসড়কের পাকিজা মোড় (শহীদ ইয়ামিন চত্বর) এলাকায় অবরোধ করেন সাভার সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। অবরোধ তুলে নিতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে পুলিশ। পুলিশের অনুরোধে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল করতে দেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ২টায় আবারও সড়ক অবরোধ করেন তারা।

এ সময় এক শিক্ষার্থী উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘গতকালও আমরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছি, আজও করছি। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আমাদের কর্মসূচি চলবে।’

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাওগাতুল আলম বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছিল, পরে তা ছেড়ে দিয়েছে। তারা আবারও সড়ক অবরোধ করেছে কি না, খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।’


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন