Logo

শিক্ষা

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাকে ফেরানোর উদ্যোগের প্রতিবাদ

গবির প্রশাসনিক ভবনে তালা

Icon

গবি সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

গবির প্রশাসনিক ভবনে তালা

ছবি: সংগৃহীত

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার আবু মোহাম্মদ মুকাম্মেলকে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় উঠেছে-এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্যরা। 

সোমবার (৩ আগস্ট)  সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন তারা। পরে সকাল ১১টা ১২ মিনিটে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান তালা খুলে দেন।

জানা গেছে, জুলাই-পরবর্তী আন্দোলনের সময় প্রশাসনিক বিভিন্ন সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তৎকালীন রেজিস্ট্রার তাসাদ্দেক হোসেন ও সহকারী রেজিস্ট্রার আবু মোহাম্মদ মুকাম্মেলকে অপসারণ। আন্দোলনের পর তাসাদ্দেক হোসেনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও পরে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক পর্যালোচনা করে ট্রাস্টি বোর্ড আবু মোহাম্মদ মুকাম্মেলকে চাকরিচ্যুত করে। তবে রোববার (২ আগস্ট)  অনুষ্ঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় তার চাকরিচ্যুতির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব ওঠে বলে জানা যায়। 

এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই আজ সকালে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংসদের সদস্যরা। তবে, ট্রাস্টি বোর্ডের কোন সদস্য পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব তুলেছেন, তা তাদের জানা নেই। ট্রাস্টি বোর্ডের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে তাকে পুনর্বহালের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেন বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাস্টি বোর্ড আবু মোহাম্মদ মুকাম্মেলকে চাকরিচ্যুত করেছিল। এখন সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন। তাই তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং উপাচার্যের মাধ্যমে ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে লিখিতভাবে দাবিগুলো দেওয়া হবে। যাকে নানা বিতর্ক ও অভিযোগের কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাকে পুনর্বহালের কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল তাসাদ্দেক হোসেন ও আবু মোহাম্মদ মুকাম্মেলকে অপসারণ। পরে ট্রাস্টি বোর্ড নানা অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আবু মোহাম্মদ মুকাম্মেলকে চাকরিচ্যুত করে। কিন্তু ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় একজন ট্রাস্টি তার চাকরিচ্যুতির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব তুলেছেন বলে জানতে পেরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ও ছাত্র সংসদের সদস্যরা প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ট্রাস্টিবোর্ড বরাবর আবেদন পত্র বা লিখিত ভাবে তাদের দাবিগুলো জমা দিবে বলেছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা বিবেচনা ট্রাস্টিবোর্ড করবে এবং পরবর্তীতে সে স্বীদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।’

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন