ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও অ্যাক্রেডিটেশন বা স্বীকৃতি প্রদান বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কার্যক্রম আয়োজন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিফিকেশন অ্যাসিউরেন্স সেল’ (আইকিউএসি)। মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস এজেন্সি (এমকিউএ)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো’ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাতার বিন সাবরান মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান । বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য প্রফেসর ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস এজেন্সি (এমকিউএ)-এর পরিচালক আবুল সামান বিন তাইপ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবির, উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল ও ‘ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিফিকেশন অ্যাসিউরেন্স সেল’ (আইকিউএসি)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল।
দাতো’ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাতার বিন সাবরান ‘বৈশ্বিক যুগে গুণমান নিশ্চিতকরণ এবং উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ’ বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস এজেন্সি (এমকিউএ)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো’ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাতার বিন সাবরান বিশ্বব্যাপী উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে গুণগত মান নিশ্চিতকরণের ক্রমবিকাশমান ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি এমকিউএ-এর কার্যাবলী ব্যাখ্যা করেন, যার মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ, যোগ্যতা কাঠামো উন্নয়ন, স্বীকৃতি প্রদান, উচ্চশিক্ষা প্রদানকারী ও কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং যোগ্যতার স্বীকৃতি সহজতর করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বৈশ্বিক যুগে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুণগত মানই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
তিনি মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্কের বিবর্তন, অ্যাক্রেডিটেশন বা স্বীকৃতি প্রক্রিয়ার চক্র, ফলাফল-ভিত্তিক শিক্ষা, ধারাবাহিক গুণমান উন্নয়ন, বৈশ্বিক র্যাঙ্কিং, আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল ও নমনীয় শিক্ষণ পদ্ধতির মতো নতুন উদ্যোগগুলো নিয়েও আলোচনা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষা এখন এমন এক সীমানাহীন ও পারস্পরিক সংযুক্ত যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও গুণমান নিশ্চিতকরণ অপরিহার্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি) ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অ্যাক্রেডিটেশন বা গুণগত মানস্বীকৃতির কার্যক্রম শুরু করেছে এবং বেশ কয়েকটি অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রাম এই স্বীকৃতি লাভ করেছে। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলোর কারণে গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও অ্যাক্রেডিটেশনের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি শক্তিশালী গুণগত মান-ভিত্তিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি স্পষ্ট করেন যে বিএসি-র লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি না করে বরং তাদের অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করা। এ ছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গুণগত মান নিশ্চিতকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যাকাডেমিক গতিশীলতার (অ্যাকাডেমিক মোবিলিটি) গুরুত্বও তুলে ধরেন।
তিনি পরামর্শ দেন যে, গুণগত সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে বিএসি এবং এমকিউএ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ শুধু আইকিউএসি-র একার দায়িত্ব নয়; ডিন, বিভাগীয় প্রধান, অনুষদ সদস্য এবং অন্যান্য অংশীজনদের প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত মান উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে হবে।
অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, পরিবর্তনশীল শিল্প ও পেশাগত চাহিদা পূরণে উদীয়মান শিক্ষাগত ধারা, বিশেষ করে মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্সের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ‘প্রফেসর অফ প্র্যাকটিস’ পদ প্রবর্তনের মাধ্যমে শিল্পখাতের সম্পৃক্ততা জোরদার করতে ডিআইইউ-এর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়াতে একটি শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার ওপর জোর দেন।
এই উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত মান-সংস্কৃতি জোরদার করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার অ্যাক্রেডিটেশন ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে আগ্রহী। এই আলোচনা বৈশ্বিক অ্যাক্রেডিটেশন চর্চা সম্পর্কে বোঝাপড়া বাড়াতে এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে গুণগত মান নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

