১৪০ মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
শিক্ষা ডেস্ক :
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৬
২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমের ‘টপ পোর্টশন’ নির্ধারিত নিয়মে মূল উত্তরপত্র থেকে আলাদা না করে বোর্ডে পাঠানোর ঘটনায় ১৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে পরীক্ষা-সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং পরীক্ষা পরিচালনার নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির ১২১তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. ফারুক আহম্মেদের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দাখিল পরীক্ষার উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমের শীর্ষ অংশ বা ‘টপ পোর্টশন’ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মূল উত্তরপত্র থেকে আলাদা করে বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। তবে কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ওই অংশ আলাদা না করেই উত্তরপত্র বোর্ডে পাঠানো হয়। এর ফলে পরীক্ষার গোপনীয়তা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
পরীক্ষা পরিচালনার বিধি অনুযায়ী, কক্ষ প্রত্যবেক্ষক, পরীক্ষা পরিচালনা উপ-কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্র সচিবদের উত্তরপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত ও বোর্ডে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বোর্ড জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরীক্ষা পরিচালনা ম্যানুয়াল এবং বোর্ডের দেওয়া নির্দেশনা অমান্য হয়েছে। দায়িত্ব পালনে এমন অবহেলার বিষয়টি শৃঙ্খলা কমিটির সভায় পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গাজীপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, বাগেরহাট, নড়াইল, বরিশাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, রাঙামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিলেট ও হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার কেন্দ্র সচিব, পরীক্ষা পরিচালনা উপ-কমিটির সদস্য এবং কক্ষ প্রত্যবেক্ষকদের মধ্যে ১৪০ জন এ ব্যবস্থার আওতায় পড়েছেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব শিক্ষক-কর্মচারীকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত কেন্দ্র ও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

