Logo

শিক্ষা

‘প্রাণী ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ায় ফাঙ্গাল রোগের বিস্তার’

Icon

গবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২২

‘প্রাণী ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ায় ফাঙ্গাল রোগের বিস্তার’

ছবি: সংগৃহীত

কুকুর, বিড়াল, পাখিসহ বিভিন্ন পোষা প্রাণী ফাঙ্গাস বহন করতে পারে, একইভাবে ছাদবাগানসহ বিভিন্ন জায়গা থেকেও ফাঙ্গাস মানুষের মধ্যে আসতে পারে। তাই প্রাণীসম্পর্কিত ফাঙ্গাস নিয়ন্ত্রণে গবেষণা ও উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাণী ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ায় ফাঙ্গাল রোগের বিস্তারের সুযোগ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তানভীর রহমান।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) ‘ছত্রাকজনিত রোগ শুরু হয় যেখানে জীবন ঘটে: সচেতনতা, প্রতিরোধ ও সুরক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপকের বক্তব্যে তিনি এ বক্তব্য রাখেন।

সেন্টার ফর মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের যৌথ আয়োজনে এই সেমিনারে তিনি আরো বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বেশি দেখা যায় এমন কিছু ফাঙ্গাল রোগকে নেগলেক্টেড ফাঙ্গাস বলা হয়—স্পোরোট্রাইকোসিস, মাইকেটোমা ও ক্রোমোব্লাস্টোমাইকোসিসের মতো রোগ নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। পোষা প্রাণীর মাধ্যমে দাদসহ বিভিন্ন ফাঙ্গাল সংক্রমণ ছড়াতে পারে, আর অ্যাসপারজিলাসের মতো ফাঙ্গাস খাবারে টক্সিন তৈরি করেও ক্ষতি করতে পারে। ফাঙ্গাল রোগ নির্ণয়ে কালচার টেকনিক কার্যকর হলেও অনেক ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যায়, এ সময়ের মধ্যে রোগীর অবস্থার অবনতি ও সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয়ে অ্যাডভান্সড ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে আলোচক গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনেরিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তানিয়া হক বলেন, জনস্বাস্থ্যে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে, তবে অন্যান্য অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের তুলনায় এর সংখ্যা খুবই কম। এর একটি কারণ, মানুষ ও ছত্রাক উভয়ই ইউক্যারিওটিক কোষ হওয়ায় তাদের গঠনগত মিল রয়েছে ফলে বিশেষভাবে ছত্রাককে লক্ষ্য করে ও মানবদেহে ন্যূনতম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী ওষুধ তৈরি করা চ্যালেঞ্জিং।

তিনি আরও বলেন, অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের স্বল্পতার পাশাপাশি এর যথাযথ ব্যবহারও জরুরি। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপত্র এবং সম্পূর্ণ কোর্স শেষ না করার কারণে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে পারে, যা মোকাবিলায় সমন্বিত বা কম্বিনেশন থেরাপি একটি কার্যকর উপায় হতে পারে বলে মত দেন তিনি।

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, বাংলাদেশে ফাঙ্গাল রোগ যেভাবে ছড়াচ্ছে, তাতে এর প্রতিরোধে কৃষি, কারখানা ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিফাঙ্গাল ব্যবহার, বিশেষত স্টেরয়েড ও অ্যান্টিফাঙ্গালের কম্বিনেশন ক্রিম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সঠিক রোগ নির্ণয়, সঠিক ডোজ ও সঠিক সময় ধরে ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি ল্যাব ডায়াগনোসিস ও হাসপাতালের ইনফেকশন কন্ট্রোলে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তিনি আরও জানান, ফাঙ্গাসের উপস্থিতির পাশাপাশি এর রেজিস্ট্যান্সও তৈরি হচ্ছে, যা মোকাবিলায় মাইক্রোবায়োলজি, ফার্মেসি, ভেটেরিনারি ও এগ্রিকালচারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে গবেষণার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় ফ্যাসিলিটি থাকা দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ ফাঙ্গাল ইনফেকশনে আক্রান্ত বলে জানান তিনি।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হোসেন, সেন্টার ফর মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ সেলের পরিচালক ড. তারিকুল ইসলাম৷ এসময়  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন